Suvendu Adhikari on Chorbagan Stampede: চোরবাগানকাণ্ডে অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে অভিযোগের আঙুল শুভেন্দুর
শুভেন্দু জানান, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশই গাড়ি বুক করে কয়েকজনকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যেরা।
দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকের আবহে। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই পুলিশের ভূমিকা এবং মণ্ডপের ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এ বার ঘটনার জন্য অস্থায়ী হোমগার্ডদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, মূল অভিযোগ অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তাঁদের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ঘটনার তদন্ত এবং পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রবিবার সকালে চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে নানা তথ্য পেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিশই গাড়ি বুক করে কয়েকজনকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যেরা।
এর পরেই অস্থায়ী হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েকজন অস্থায়ী হোমগার্ড গত দু’বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় বছরেও তাঁরা কাজে রয়েছেন। তাঁদের নামের তালিকা চেয়েছেন তিনি। শনিবার রাতে এক হোমগার্ডের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ওই হোমগার্ড বাংলায় কথা বলতে চাননি এবং বাংলা বুঝতে পারেন না বলে জানিয়েছিলেন।
আগের সরকারের আমলে এই হোমগার্ডদের নিয়োগ হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
বৃষ্টি, দড়ি ছেড়ে দেওয়াই কি বিপর্যয়ের কারণ?
কীভাবে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শুভেন্দুর প্রাথমিক বক্তব্য, দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রবেশ ও বেরোনোর পথের কাছেই বিপর্যয় ঘটে। তাঁর দাবি, ভিড় সামলানোর জন্য যে দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা ছেড়ে দেওয়ার ফলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
ঘটনার পর চোরবাগানের পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পাঁচ উদ্যোক্তা-সহ মোট ১০ জনকে আটক করার কথাও আগেই জানিয়েছিল প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা, আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের
বৈঠকের পর শুভেন্দু জানান, মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। আহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তাঁদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহত ২৫ জনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তিনি। মৃতদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজে দেখা করার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু।
ভিআইপি লাইন বন্ধের নির্দেশ
চোরবাগানের ঘটনার পর বাকি পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক প্রশাসন। ভিড় হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পৃথক ভিআইপি লাইন বন্ধ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, পুজোর থিমের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যেন রাজনীতি না হয়। এখন নজর তদন্তের দিকে। অস্থায়ী হোমগার্ডদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, আর ঠিক কী কারণে এত মানুষের মৃত্যু হল, তার উত্তর খুঁজছে প্রশাসন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


