Suvendu Adhikari: এখনই বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ জনের সমর্থন পাবে বিজেপি! বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
বিজেপির হাতে বর্তমানে ২০৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তাহলে অতিরিক্ত ৬৬ জন বিধায়ক কোথা থেকে আসবেন? মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, বিরোধী শিবিরের একটি বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
বাংলার বিধানসভায় এখনই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পরীক্ষা হলে বিজেপির পক্ষে ২৭৫ জন বিধায়ক সমর্থন জানাবেন। বিজয়া দশমীর দিন এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিজেপির হাতে বর্তমানে ২০৯ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাহলে অতিরিক্ত ৬৬ জন বিধায়ক কোথা থেকে আসবেন? মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, বিরোধী শিবিরের একটি বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে অন্য দলের বিধায়কদের সঙ্গে বিজেপির সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কীসের ভিত্তিতে এই দাবি?
বুধবার বরানগরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানে বামেদের স্টল ঘিরে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। বিজেপির আসন সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর বক্তব্য, এক সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫০-এর মধ্যে থাকবে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯। তাঁর দাবি, বিধানসভায় আস্থা পরীক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হলে আরও অনেক বিধায়ক বিজেপির পক্ষে দাঁড়াবেন। সেই হিসাব ধরেই ২৭৫ জনের সমর্থন পাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
কিন্তু কীভাবে ২০৯ থেকে ২৭৫-এ পৌঁছবে বিজেপি? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা ৬৪ জন বিধায়ক আস্থা পরীক্ষার সময় বিজেপিকে সমর্থন জানাতে পারেন। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা বামেদের
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই সরব হয়েছে সিপিএম। দলের নেতা শতরূপ ঘোষের দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে বলে বিরোধীরা আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছে। এবার মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছে বাম শিবির।
শতরূপের হুঁশিয়ারি, এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছে তারা। তাঁর মতে, বিরোধী দলের নাম নিয়ে থাকা একটি গোষ্ঠী যদি বিজেপির স্বার্থে কাজ করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ঋতব্রত শিবির। তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী কেন এমন মন্তব্য করেছেন, তার ব্যাখ্যা তাঁর কাছেই রয়েছে। বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাঁরা কালীঘাটের তৃণমূল শিবির থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
পালটা আক্রমণ তৃণমূলের
শুভেন্দুর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরও আক্রমণ শানিয়েছে। দলের নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কেরা বিজেপির প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যে হিসাব দিয়েছেন, তা থেকেই ওই বিধায়কদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
একই সঙ্গে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কুণাল। তাঁর দাবি, গোপন ব্যালটে বিধানসভায় আস্থা পরীক্ষা হলে প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ২৭৫ জনের সমর্থনের দাবি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তবে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কেরা সত্যিই বিজেপির পক্ষে ভোট দেবেন কি না, তার কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। ফলে শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, নাকি বিধানসভার অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, তা নিয়ে জল্পনা চলছেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


