Suvendu on Elliot Park: এলিয়ট পার্কের টিনের বেড়া সরতেই ফিরল সবুজের সৌন্দর্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এলিয়ট পার্কের ‘আগে’ ও ‘পরে’-র দুটি ছবি পোস্ট করেন শুভেন্দু। সেখানে দেখা যায়, আগে উঁচু টিনের ঘেরাটোপে ঢেকে ছিল পার্কের বড় অংশ। বর্তমানে সেই বেড়া সরিয়ে দেওয়ায় রাস্তা থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পার্কের সবুজ পরিবেশ, গাছপালা এবং খোলা প্রান্তর।

Published on: Aug 6, 2026, 13:14:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ময়দানের এলিয়ট পার্ককে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে উঁচু টিনের বেড়ায় ঢাকা ছিল পার্কের একাংশ। বাইরে থেকে আর দেখা যেত না পার্কের সবুজ পরিবেশ বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই টিনের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এরপরই কলকাতা পুরসভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ময়দানের এলিয়ট পার্ককে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হল।
ময়দানের এলিয়ট পার্ককে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হল।

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এলিয়ট পার্কের ‘আগে’ ও ‘পরে’-র দুটি ছবি পোস্ট করেন শুভেন্দু। সেখানে দেখা যায়, আগে উঁচু টিনের ঘেরাটোপে ঢেকে ছিল পার্কের বড় অংশ। বর্তমানে সেই বেড়া সরিয়ে দেওয়ায় রাস্তা থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পার্কের সবুজ পরিবেশ, গাছপালা এবং খোলা প্রান্তর। এই পরিবর্তনকে সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে রাখতেই এলিয়ট পার্ক ঘিরে উঁচু টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে হাঁটতে আসতেন বলেই পার্কের চারপাশ ঢেকে রাখা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষের নজর তাঁর উপর না পড়ে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, ময়দানের এলিয়ট পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ এবং মনোরম পরিবেশ এতদিন চৌরঙ্গী রোডের দিক থেকে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষ পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এখন সেই বেড়া সরিয়ে পার্ক আবার সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে শুভেন্দু লেখেন, টিনের বেড়া সরিয়ে এলিয়ট পার্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরসভাকে ধন্যবাদ। তাঁর কথায়, জনসাধারণের সম্পদ সব সময় জনসাধারণের জন্যই উন্মুক্ত থাকা উচিত। পার্ক, উদ্যান বা অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি কোনও ব্যক্তিবিশেষের সুবিধার জন্য নয়, বরং সকলের ব্যবহারের জন্যই সংরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাক্তন ও বর্তমান সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের আবহ তৈরি হতে পারে। কারণ, এলিয়ট পার্কের টিনের বেড়া সরানোর বিষয়টিকে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসর হিসেবে পরিচিত এলিয়ট পার্কে প্রতিদিনই বহু মানুষ হাঁটতে, শরীরচর্চা করতে কিংবা অবসর কাটাতে আসেন। দীর্ঘদিন পর পার্কের চারপাশের উঁচু টিনের বেড়া সরিয়ে দেওয়ায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এতে শুধু পার্কের সৌন্দর্যই দৃশ্যমান হয়নি, বরং ময়দানের খোলা পরিবেশও আগের মতো ফিরে এসেছে। প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতেও শহরের বিভিন্ন উন্মুক্ত জনপরিসরকে আরও সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More