Swapan Dasgupta on Deshapriya Park Row: পুজোর আগে দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ, কী বললেন স্বপন দাশগুপ্ত?

জানা গিয়েছে, দেশপ্রিয় পার্কে চলতি বছর প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার একটি মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। গত ২৮ জুন নিয়ম মেনে খুঁটিপুজোও হয়। এরপর শুরু হয়ে যায় মণ্ডপ নির্মাণের কাজ। কিন্তু পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই আচমকা সমস্যা তৈরি হয়।

Published on: Aug 14, 2026, 13:32:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির মধ্যেই কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের মতান্তর থেকেই এই ঘটনা বলে অভিযোগ। এক পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর কয়েকজন পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের একাংশ পুরনো কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। সেই বিবাদের মধ্যেই পুজোর প্রস্তুতি চলছিল জোরকদমে।

বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত দুই পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ। (PTI)
বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত দুই পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ। (PTI)

জানা গিয়েছে, দেশপ্রিয় পার্কে চলতি বছর প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার একটি মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। গত ২৮ জুন নিয়ম মেনে খুঁটিপুজোও হয়। এরপর শুরু হয়ে যায় মণ্ডপ নির্মাণের কাজ। কিন্তু পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই আচমকা সমস্যা তৈরি হয়।

পুজো কমিটির অভিযোগ, গত ৯ অগস্ট রাত প্রায় আটটা নাগাদ ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক পার্কের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তাঁদের অধিকাংশই বহিরাগত বলে দাবি কমিটির। অভিযোগ, কাউকে কোনও কিছু না জানিয়েই তাঁরা মণ্ডপে ভাঙচুর শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর এলাকা ছেড়ে চলে যায় ওই যুবকেরা।

ঘটনার পর ১১ অগস্ট রবীন্দ্র সরোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পুজো কমিটি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারা জড়িত, কেনই বা মণ্ডপে হামলা চালানো হল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

এই ঘটনার পর দেশপ্রিয় পার্ক আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে পার্ক কবে খুলবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত দুই পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ। তাঁর দাবি, প্যান্ডেল ধ্বংস করা হয়নি এবং কোনও কিছু ভাঙা হয়নি। দেশপ্রিয় পার্কের পুজো নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় নোটিস দিয়ে পরিস্থিতি ও নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। ফলে পুজো কমিটির দ্বন্দ্ব, পুরসভার নোটিস এবং আইনি জট—সব মিলিয়ে দেশপ্রিয় পার্কের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

স্বপন দাশগুপ্ত আরও জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই তাঁর নীতি। একটি পুজো কমিটি তাঁকে সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাঁর বক্তব্য, পুজো সকলের এবং কোনও কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদে রাজনীতির প্রবেশ করা উচিত নয়। কমিটির মধ্যে সমস্যা থাকলে তা নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এখন স্থানীয় বিধায়কের কাছে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল রাসবিহারী বিধানসভা এলাকার বন্ধ থাকা পার্কগুলি ফের সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া। দেশপ্রিয় পার্কও দ্রুত খুলবে কি না, সে দিকেই নজর স্থানীয়দের।

দুর্গাপুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগে পুজো কমিটির বিবাদ, মণ্ডপে হামলার অভিযোগ এবং পার্ক বন্ধ থাকার ঘটনায় উৎসবের আবহে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী উঠে আসে এবং দুই গোষ্ঠীর বিবাদ কীভাবে মেটে, এখন সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More