Tarapith Kaushiki Amavasya: কৌশিকী অমাবস্যায় বারকোড স্ক্যানেই তারাপীঠের রুট ম্যাপ, জুতো রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ তারাপীঠের জন্য বিশেষ রুট ম্যাপ প্রকাশ করেন। সেখানে যান চলাচল, পার্কিং, মন্দিরে প্রবেশের পথ এবং ভিআইপি দর্শনের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ অ্যাপও।
আজ কৌশিকী অমাবস্যা। অবশ্য দুদিন আগে থেকেই আলোর সাজে সেজে উঠেছে বীরভূমের তারাপীঠ। ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে প্রতি বছরই তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এ বারও লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে অনুমান করা হচ্ছে। সেই ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা থেকে যান চলাচল—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ তারাপীঠের জন্য বিশেষ রুট ম্যাপ প্রকাশ করেন। সেখানে যান চলাচল, পার্কিং, মন্দিরে প্রবেশের পথ এবং ভিআইপি দর্শনের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ অ্যাপও।
বারকোড স্ক্যান করলেই মিলবে রুট ম্যাপ
তারাপীঠের বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্পে বারকোড রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা মোবাইল দিয়ে সেই বারকোড স্ক্যান করলেই রুট ম্যাপ দেখতে পারবেন। কোন জায়গায় গাড়ি রাখা যাবে, কোন রাস্তা নো-এন্ট্রি, সাধারণ ভক্তদের প্রবেশের পথ কোথায় এবং ভিআইপি দর্শনের জন্য কোন ব্যবস্থা রয়েছে—সব তথ্যই ম্যাপে পাওয়া যাবে। পুলিশের লক্ষ্য, ভিড়ের মধ্যে যাতে দর্শনার্থীদের অযথা ঘুরতে না হয় এবং সঠিক পথে দ্রুত পৌঁছতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তায় ৪ হাজারের বেশি পুলিশ
কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড়ের উপর নজর রাখতে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। এর পাশাপাশি থাকছে স্পেশাল টেকনিক্যাল টিম। মন্দির ও আশপাশের এলাকায় বসানো হয়েছে বিপুল সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা। সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করতে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে।
কোনও ধরনের বিপর্যয় বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। দর্শনার্থীদের সাহায্য করতে ২৬টি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথও তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রপ গেট।
তারাপীঠের রাস্তায় কড়া যান নিয়ন্ত্রণ
ভিড় এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকাল থেকেই তারাপীঠমুখী রাস্তায় নো-এন্ট্রি কার্যকর হয়েছে। রামপুরহাটের মুনসুভা মোড় থেকে তারাপীঠের দিকে ভারী যানবাহন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক মিনিবাস এবং ই-রিকশাকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বীরচন্দ্রপুর এবং মল্লারপুরের দিক থেকেও গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধ থাকছে।
পুলিশের তরফে দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ব্যবহার করার অনুরোধ করা হয়েছে। রাস্তার উপর গাড়ি রেখে দিলে যানজট আরও বাড়তে পারে। তাই গাড়ি নিয়ে আসা ভক্তদের আগে থেকেই নির্দিষ্ট জায়গায় তা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জুতো রাখার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা
মন্দিরের সামনে জুতো খুলে রাখার পরিবর্তে সোনার বাংলা মোড় সংলগ্ন নির্দিষ্ট জায়গায় জুতো রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। ভিড়ের মধ্যে মন্দিরের সামনে অযথা জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই ব্যবস্থা।
ভিআইপি দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা
৫০০ টাকার ভিআইপি টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ প্রবেশের ব্যবস্থা থাকছে। তবে সাধারণ এবং ভিআইপি—দুই ধরনের দর্শনার্থীরই মূল প্রবেশ ২ নম্বর গেট দিয়ে হবে। মন্দির চত্বরে কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। ফলে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি রেখে হেঁটেই মন্দিরের দিকে যেতে হবে দর্শনার্থীদের।
প্রযুক্তির উপর বাড়তি জোর
এ বার কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতিতে প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা পুলিশ। রুট ম্যাপের পাশাপাশি সিসিটিভি, ফেস রিকগনিশন, কন্ট্রোল রুম এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত দলের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে।
পুলিশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এ বারের মূল লক্ষ্য। লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ভিড়েও যাতে দর্শন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং সবাই নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই একাধিক স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কৌশিকী অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই বিপুল জনসমাগমকে সুশৃঙ্খল ভাবে সামলানো। সেই পরীক্ষায় প্রযুক্তি, কঠোর যান নিয়ন্ত্রণ এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী কতটা কার্যকর হয়, নজর থাকবে সেদিকেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


