Taratala Building Collapse: তারাতলা বিপর্যয়ে নাম জড়াল ‘কুখ্যাত’ আসগরের, আগেই সতর্কবার্তা দেওয়ার দাবি বামেদের

সেলিমের দাবি, গত ১১ জুন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে তারাতলার গুদাম নির্মাণের সময় শ্রমিক সুরক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়।

Published on: Jun 25, 2026, 08:53:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Taratala Building Collapse: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর দায় নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বুধবার দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। এমনকি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর। সেলিমের দাবি, গত ১১ জুন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে তারাতলার গুদাম নির্মাণের সময় শ্রমিক সুরক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি ‘কুখ্যাত’ আসগরের নাম উল্লেখ করে নির্মাণকাজে একাধিক অনিয়মের কথাও জানানো হয়েছিল বলে দাবি সিপিএমের।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। (ANI Video Grab  )
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি করেন, এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। (ANI Video Grab )

বুধবার সিপিএমের পক্ষ থেকে ওই চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ্যে আনা হয়। দুই পাতার ওই চিঠিতে নাজিরাবাদে একটি গুদামে শ্রমিকদের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেলিমের অভিযোগ, এত গুরুতর সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আর তার ফলেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানান, জমির মালিকানা বা সত্ত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকলেও নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার। ফলে নির্মাণের নকশা ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে পুরসভার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নির্মাণের নকশাগত ত্রুটির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভবনের নকশায় কিছু সমস্যা থাকতে পারে, যা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই নকশার অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। ঘটনার পর প্রশাসনও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা রয়েছে, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা পুর এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক প্রকল্প এবং জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা নির্মাণকাজ আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির নকশা, নির্মাণপদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে।

এর জন্য পিডব্লুডি, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হবে। এই দল প্রতিটি প্রকল্পের বিল্ডিং প্ল্যান পরীক্ষা করবে এবং সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে দেখবে অনুমোদনে কোনও ত্রুটি ছিল কি না। অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে হাসপাতাল, মেট্রো, দমকল কেন্দ্র, সেনাবাহিনীর প্রকল্প এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নির্মাণকাজ এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। তারাতলার এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণ নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন সকলের নজর বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতির দিকে, যেখানে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More