Tata Steel World 25K: ২ মিনিটের বেশি গ্যাপে রেকর্ড ভেঙে গুলবীর বললেন ‘এমনি হয় না’, TSW-তে ইতিহাস সীমারও
টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতার দশম সংস্করণে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার হল। ভারতীয় দৌড়বিদরা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর বার্তা দিলেন। আন্তর্জাতিক এলিট পুরুষ বিভাগে উগান্ডার জশুয়া চেপ্তেগেই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও দিনটি মূলত ছিল ভারতের গুলবীর সিং এবং সীমার।
টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতার দশম সংস্করণে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চুরমার হল। চ্যাম্পিয়নরা তাঁদের আধিপত্য বজায় রাখলেন এবং ভারতীয় দৌড়বিদরা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর বার্তা দিলেন। আন্তর্জাতিক এলিট পুরুষ বিভাগে উগান্ডার জশুয়া চেপ্তেগেই তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেও দিনটি মূলত ছিল ভারতের গুলবীর সিং এবং সীমার। যাঁরা দুজনেই নিজ-নিজ বিভাগে নতুন কোর্স রেকর্ড গড়েছেন।

অলিম্পিকে দুবার সোনাজয়ী চেপ্তেগেই শুরু থেকেই রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিলেন। ১:১১:৪৯ সময়ে দৌড় শেষ করে তিনি নিজের প্রথম শিরোপা জয় করেন। তাঁর পিছনেই ছিলেন তানজানিয়ার আলফনস ফেলিক্স সিয়াম্বু (১:১১:৫৬) এবং লেসোথোর টেবলো রামাকোঙ্গোয়ানা (১:১১:৫৯)। যদিও তিনি ২০২৩ সালে ড্যানিয়েল সিমু ইবেনিওর গড়া ১:১১:১৩ সেকেন্ডের কোর্স রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি, তবে তাঁর এই জয় ইভেন্টের ওপর তাঁর আধিপত্যকেই পুনর্নিশ্চিত করেছে। দৌড়ের একটা বড় সময় পর্যন্ত এই তিনজন একসাথেই ছিলেন, এমনকি ১৫ বা ২০ কিমি পর্যন্তও তাঁদের মধ্যে কোনো ব্যবধান ছিল না। কিন্তু ২১.১ কিমি অর্ধ-ম্যারাথন দূরত্বে এসে জশুয়া গতি বাড়ান এবং শেষ চার কিলোমিটারে বাকিদের পিছনে ফেলে দেন।
জশুয়া চেপ্তেগেই বলেন, 'আমার কাছে রেকর্ডের চেয়ে জয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কলকাতায় ফিরে এসে জেতাটা স্পেশাল। এই জয় আমাকে আমার পরবর্তী ম্যারাথনের প্রস্তুতির জন্য আত্মবিশ্বাস দেবে।'
আন্তর্জাতিক এলিট মহিলা বিভাগে ইথিওপিয়ার দেগিতু আজিমেরাও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সুতুমে আসেফা কেবেদেকে পরাজিত করেন। ১:১৯:৩৬ সময়ে দৌড় শেষ করে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। সুতুমে দ্বিতীয় (১:২০:২৮) এবং মেসেলেচ আলেমায়েহু তৃতীয় (১:২০:৪৮) হয়ে ইথিওপিয়ানদের জয়জয়কার সম্পন্ন করেন। দেগিতু শুরু থেকেই রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন এবং ফিনিশিং লাইনে তিনি দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর থেকে প্রায় ৫০০ মিটার এগিয়ে ছিলেন। জয়ের পর দেগিতু বলেন, 'আমার পা শুরুতে কিছুটা শক্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ১০ কিমি পর থেকে আমি স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাই এবং জয় নিশ্চিত করি।'
তবে দিনের সবচেয়ে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স ছিল ভারতীয় এলিট বিভাগে। গুলবীর সিং নিজেরই গড়া গত বছরের রেকর্ডটি দুই মিনিটেরও বেশি ব্যবধানে ভেঙে ১:১২:০৬ সময়ে দৌড় শেষ করে এক নতুন নজির গড়েন। হরমনজ্যোত সিং (১:১৫:১১) এবং সাওয়ান বারওয়াল (১:১৫:২৫) যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন। গুলবীর শুরু থেকেই এক অন্য স্তরে ছিলেন; ১৫ কিমি থেকেই তিনি দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর চেয়ে এক মিনিটেরও বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।
এশীয় দূরপাল্লার দৌড়ে ডাবল গোল্ড মেডেল জয়ী গুলবীর বলেন, ‘রেকর্ড এমনি এমনি তৈরি হয় না, এটি ধারাবাহিকতার ফল। ডায়েট, ওয়ার্কআউট এবং বিশ্রাম—এর বাইরে আমার আর কোনও জগত নেই। ভারত ধাপে-ধাপে এগোচ্ছে, আর আমি তো কেবল শুরু করলাম।’
একইভাবে দাপুটে ছিল ভারতীয় এলিট মহিলা বিভাগে সীমার জয়। গত বছরের এশীয় ক্রস-কান্ট্রি চ্যাম্পিয়ন সীমা ১:২৬:০৪ সময়ে দৌড় শেষ করে ২০১৭ সালে সুরিয়া এল-এর গড়া ১:২৬:৫৩ সেকেন্ডের রেকর্ডটি ভেঙে দেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সঞ্জীবনী যাদব (১:৩০:৩৪) তাঁর থেকে প্রায় চার মিনিটেরও বেশি পিছিয়ে ছিলেন। ২০ কিমি থেকেই সীমা নিজের জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আট বছরের পুরনো রেকর্ডটি মুছে দেন।
সীমা বলেন, ‘কোর্সটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমি জেতার মানসিকতা নিয়েই এসেছিলাম। কোর্স রেকর্ড গড়তে পেরে আমি খুব খুশি। এখন আমার লক্ষ্য আগামী বছরের এশীয় এবং কমনওয়েলথ গেমসের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


