জনগণনার কাজে শিক্ষক নিয়োগ, পিছোচ্ছে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক! ফেব্রুয়ারির বদলে পরীক্ষা মার্চে, প্রস্তাবিত নতুন সূচি প্রকাশ

২ নভেম্বর স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে নতুন সূচির অনুমোদন চেয়েছেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি। ফলে পরীক্ষার নতুন দিনক্ষণ আপাতত প্রস্তাব হিসেবেই থাকছে।

Updated on: Nov 3, 2026, 14:09:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চ মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব দিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কারণ, আগামী বছর দেশজুড়ে জনগণনার কাজ চলবে। সেই কাজে রাজ্যের বহু স্কুলশিক্ষককে নিয়োগ করা হতে পারে। ফলে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক এবং পরিদর্শক পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই পরীক্ষার সূচি বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ নভেম্বর স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে নতুন সূচির অনুমোদন চেয়েছেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি। ফলে পরীক্ষার নতুন দিনক্ষণ আপাতত প্রস্তাব হিসেবেই থাকছে।

স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে নতুন সূচির অনুমোদন চেয়েছেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়
স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে নতুন সূচির অনুমোদন চেয়েছেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়

১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল

চলতি বছরের ১৩ জুলাই ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সেই সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা চলার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার এই সময়ের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে জনগণনার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।

পর্ষদ সূত্রে খবর, আগামী বছর জানুয়ারি থেকে জনগণনার মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার কথা। এই কাজে রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের বহু শিক্ষককে যুক্ত করা হতে পারে। ফলে একই সময়ে স্কুলশিক্ষকদের একাংশকে জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকতে হলে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া কঠিন হবে। পরীক্ষার নজরদারি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষার দিনক্ষণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কবে থেকে শুরু হতে পারে পরীক্ষা?

পর্ষদের প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২ মার্চ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে পারে। চলতে পারে ১৬ মার্চ পর্যন্ত। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তাবিত সূচি হল—

২ মার্চ - প্রথম ভাষা

৩ মার্চ - দ্বিতীয় ভাষা

৫ মার্চ - ইতিহাস

৮ মার্চ - ভূগোল

১২ মার্চ - গণিত

১৩ মার্চ - ভৌতবিজ্ঞান

১৫ মার্চ - জীবনবিজ্ঞান

১৬ মার্চ - ঐচ্ছিক বিষয়

অর্থাৎ, আগের সূচির তুলনায় প্রায় ১৫ দিন পিছিয়ে যেতে পারে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তবে এই সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়। স্কুলশিক্ষা দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পরেই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পর্ষদ।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কী হবে?

মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়েও পড়ুয়াদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার কোনও পৃথক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। পর্ষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মাধ্যমিকের নতুন সূচি তৈরির সময় উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পরীক্ষার দিনগুলির সঙ্গে যাতে কোনও সংঘাত না হয়, সে দিকে নজর রাখা হয়েছে। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সূচিতেও যাতে সমস্যা তৈরি না হয়, তা বিবেচনা করা হয়েছে।

চিন্তায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

পরীক্ষার মাত্র কয়েক মাস আগে দিনক্ষণ বদলের প্রস্তাব সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। বিশেষ করে পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে ফল প্রকাশের সময় এবং একাদশ শ্রেণিতে নতুন পঠনপাঠন শুরুর সূচি কী ভাবে সামলানো হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

তবে পর্ষদের লক্ষ্য, প্রশাসনিক সমস্যার কারণে যাতে পরীক্ষার আয়োজন বা নজরদারিতে কোনও ঘাটতি না থাকে। তাই সরকারের অনুমোদন পেলেই নতুন সূচি ঘোষণা করা হবে। আপাতত পড়ুয়াদের পুরনো সূচির পরিবর্তে চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকেই নজর রাখতে বলছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More