Non-TET Teachers Job Update: নন-টেট শিক্ষকদের চাকরি চলে যাচ্ছে? কড়া বার্তা কেন্দ্রকে, কী নিয়ম বলেছে সরকার?
নন-টেট শিক্ষকদের চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আর্জি শিক্ষক সংগঠনের। শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। কী বলা হল?
শিক্ষকদের টেট পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াল পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন। মঙ্গলবার শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘টেট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেরা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তারপর সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে যে নীরবতা পালন করছে, তা শাসকের নিষ্ঠুর চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আরটিই অ্যাক্ট (২০০৯ সালের বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলকভাবে শিশুদের শিক্ষালাভের অধিকার আইন) কার্যকর হওয়ার আগে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকদের রক্ষা করার জন্য অর্ডিন্যান্স জারি করে সমস্যা সমাধানের কোনও ইঙ্গিত আজ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী অথবা শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া গেল না। আমরা দাবি করছি যে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করুক এবং নন-টেট শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা থেকে মুক্ত করুক।’

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কী বলা হয়েছে?
আর শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক সেই মন্তব্য করেছেন টেট নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের নয়া মন্তব্যের পরে। লোকসভায় লিখিত জবাবে শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের আরটিই আইনের ২৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হল টেট। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। আবার সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে, শিক্ষকদের চাকরি করার জন্য দু'বছরের মধ্যে পাশ করতে হবে টেটে। টেট না থাকলে পদোন্নতিও হবে না। শুধুমাত্র যে শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের কম পড়ে আছে, তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁরা টেট উত্তীর্ণ না হয়েও অবসরগ্রহণের আগে পর্যন্ত চাকরি করে যেতে পারবেন। তবে হবে না পদোন্নতি।
'তৎকালীন নিয়োগবিধি মেনেই নিয়োগ করা হয়েছিল'
সেই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি আছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগেই যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, সেটার মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ার শিক্ষকদের বাধ্যতামূলকভাবে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার তালিকা থেকে বাদ রাখা উচিত। কারণ তাঁদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে তৎকালীন প্রচলিত নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।
‘প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার ফল’
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ‘বাস্তবে দেখা যায়, রাজ্যে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন, যাঁদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার অধিকার আইনের আগে প্রকাশিত হলেও নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বহু বছর পরে। এটি প্রশাসনিক এবং আইনি জটিলতার ফল, যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কারণে হয়নি। সুতরাং এই শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নন-টেট হিসেবে চিহ্নিত করা সম্পূর্ণরূপে অন্যায্য ও অসংগত।’
E-Paper











