LPG Crisis: যুদ্ধের আঁচ নববর্ষেও! গ্যাস সংকটে বেড়েছে মিষ্টির দাম, পকেটে ছ্যাঁকা মধ্যবিত্তের
LPG Crisis: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর তার শুরুটাই হয় নববর্ষের মিষ্টিমুখ দিয়ে। প্রতি বছর এই সময়ে মিষ্টির দোকানগুলোতে কারিগরদের নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না, চলে দিন-রাত এক করে চলে মিষ্টি তৈরির কাজ, তৈরি হয় নতুন নতুন বিভিন্ন মিষ্টিও।
LPG Crisis: পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন জামা আর রকমারি মিষ্টির আয়োজন। এখন মিষ্টির দোকানগুলিতে থাকে চরম ব্যস্ততা। তৈরি হয় নতুন নতুন বিভিন্ন মিষ্টি, ব্যবসা বেড়ে হয় প্রায় দ্বিগুণ। তবে এবারের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে নববর্ষের মিষ্টিতেও। পরিস্থিতি এমনই যে, নববর্ষের মিষ্টি এবার অন্যবারের মতো অতটা 'মিষ্টি' না-ও লাগতে পারে। শহরের নাম করা মিষ্টির দোকান থেকে জেলা মফস্বল-সর্বত্রই চিত্রটা একই। পয়লা বৈশাখের আগে দাম অনেকটাই বেড়েছে অধিকাংশ মিষ্টির।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর তার শুরুটাই হয় নববর্ষের মিষ্টিমুখ দিয়ে। প্রতি বছর এই সময়ে মিষ্টির দোকানগুলোতে কারিগরদের নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না, চলে দিন-রাত এক করে চলে মিষ্টি তৈরির কাজ, তৈরি হয় নতুন নতুন বিভিন্ন মিষ্টিও। হালখাতা উপলক্ষে প্রতিবারই পয়লা বৈশাখের দিন দুই আগে থেকেই মিষ্টির আকার এবং দামে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। দাম বাড়ে। সাইজে কমে। কারণ, বিভিন্ন দোকানে হালখাতার জন্য বিপুল চাহিদা। কিন্তু এবারের পয়লা বৈশাখে সেই ঐতিহ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট, নাজেহাল মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। বাড়তি দামে গ্যাস কেনায় মিষ্টির দাম আগেই বাড়িয়েছে দোকানগুলো। আর গত দু'দিনে তা আরও বড়েছে। যে কারণে বাড়ির জন্য মিষ্টি কিনতে গিয়েও দামের ছেঁকায় হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের। বহু ছোট, মাঝারি দোকান তো এবার অর্ডারই নেয়নি হালখাতার মিষ্টির। ফলে মাথায় হাত মিষ্টি ব্যবসায়ীদেরও।
গ্যাসের বিকল্প ব্যবস্থা করলেও তাতে এত পরিমাণ মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব নয়, তাই জোগান অনিশ্চিত হওয়ায় বহু ব্যবসায়ী গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম অর্ডার নিয়েছেন। দোকান মালিকরা জানিয়েছেন, এপ্রিলের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এলপিজি পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মিষ্টিশিল্প সংগঠনের এক সদস্য জানান, মিষ্টির কিছু আইটেমের দাম ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্যাকেজিং খরচও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, কারণ পলিমারের দাম বেড়েছে। কিছু দোকান সামান্য দাম বাড়িয়েছে, আবার কেউ কেউ খরচ সামলাতে উৎপাদন কমাচ্ছে। অনেকেই গ্রাহকদের কথা ভেবে দাম বেশি না বাড়িয়ে আকারে ছোট করেছে মিষ্টির। ক্রেতারাও পরিবর্তন বুঝতে পারছেন। ১০ টাকার মিষ্টি ১৫ টাকা হয়েছে, ১২ টাকার মিষ্টিও তাই। ১৫ টাকার মিষ্টি ২০ টাকা। গড়ে সব মিষ্টিরই দাম বেড়েছে ৫ টাকা করে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবার পরিস্থিতি আলাদা। গ্যাসের যা দাম। মিষ্টির দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। মানুষ কেনাও কমিয়ে দিয়েছে।
যেখানে বছরের এই বিশেষ সময়ে লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বাঁধেন ব্যবসায়ীরা, সেখানে এ বছর কেবল কোনও রকমে চলছে ব্যবসা।
E-Paper

