১৮ বছর আগে গৃহত্যাগ! ঝাড়খণ্ডে এনকাউন্টারে নিহত ১৫ মাওবাদীরা তালিকায় বাঁকুড়ার সুরেন্দ্রনাথ

ঝাড়খন্ডের সারান্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর এনকাউন্টারে ১৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বাঁকুড়ার সুরেন্দ্রনাথ সোরেন ওরফে সমীরও রয়েছেন।

Published on: Jan 23, 2026 4:18 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী-মুক্ত করার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আত্মসমর্পণ করে মাওবাদীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরার বার্তা দিয়েছেন তিনি। আর সেই লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাও দমন অভিযান চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। বিগত কিছুদিন আগেই খতম হয়েছে শীর্ষ ও কুখ্যাত মাওবাদী নেতা মাদভি হিদমা। পাশাপাশি ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়খন্ডের সারান্ডার জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর এনকাউন্টারে ১৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বাঁকুড়ার সুরেন্দ্রনাথ সোরেন ওরফে সমীরও রয়েছেন।

নিহত ১৫ মাওবাদীরা তালিকায় বাঁকুড়ার সুরেন্দ্রনাথ (PTI Photo)
নিহত ১৫ মাওবাদীরা তালিকায় বাঁকুড়ার সুরেন্দ্রনাথ (PTI Photo)

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে কোবরা ও ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন ১৫ জন মাওবাদী। নিহত ওই ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন বাঁকুড়ার বারিকুল থানার ইঁদকুড়ি গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ সোরেন ওরফে সমীর। নিহত সুরেন্দ্রনাথ আদতে সিপিআই মাওবাদীদের সারান্ডা জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের এককালের মাওবাদী প্রভাবিত বারিকুল থানার প্রত্যন্ত গ্রাম ইঁদকুড়ি। এই গ্রামেই জন্ম সুরেন্দ্রনাথ সোরেনের। অল্প বয়সেই বাবা মারা যান। মায়ের কাছেই বড় হয়ে ওঠেন সুরেন্দ্রনাথ ও তাঁর ভাই হলধর সোরেন। স্থানীয় শুশুনিয়া হাইস্কুলের পড়ার সময় ২০০৬-০৭ সালে নবম শ্রেণিতে অকৃতকার্য হয়ে লেখাপড়ায় ইতি টানেন সুরেন্দ্রনাথ। এরপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তারপর ২০০৯ সাল নাগাদ একবার সাময়িক সময়ের জন্য বাড়িতে ফিরেছিলেন সুরেন্দ্রনাথ। তারপর আবার চলে যান।

তাঁর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন যোগাযোগের অভাবে সুরেন্দ্রনাথ কোথায় থাকতেন, কী করতেন, তা কিছুই জানত না পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সারান্ডার জঙ্গলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের এনকাউন্টার এবং সেই এনকাউন্টারে সুরেন্দ্রনাথ সোরেনের মৃত্যুর খরর জানেন না পরিবারের লোকজন। তাঁর সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ দেখাতেও নারাজ তাঁরা। এই প্রসঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ সোরেনের ভাই হলধর সোরেন বলেন, 'আমার দাদার নাম সুরেন্দ্রনাথ সোরেন। তিনি অনেকদিন আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তিনি কী করেন, আমরা জানি না। আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।' মৃত মাওবাদী তাঁর দাদা কিনা, তাও তিনি জানেন না বলে জানান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ওড়িশার কন্ধমলের জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে। শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার দাম ছিল অন্তত ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ছিল। সেই সঙ্গে আরও তিন মাওবাদীর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগেই মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়, এই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে মাওবাদী নেতৃত্বের তরফ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, 'আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অবধি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর যে দমন অভিযান তা বন্ধ রাখা হোক। আত্মসমর্পণের সুযোগ এবং সময় দেওয়া হোক। আগামী তিন মাসের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করা হবে।' এরই মধ্যে ঝাড়খন্ড জাগুয়ার বাহিনীর এনকাউন্টারে ১৫ জন মাওবাদীর নিহত হওয়ার খবর।