কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন! বেলডাঙা অশান্তির জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে, কী বললেন বিচারপতি?

শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে রাখে বিক্ষোভকারীরা।

Published on: Jan 19, 2026 8:43 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তির জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বেলডাঙায় অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। অশান্তি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জানানো হলে, সেই আবেদন গ্রহণের অনুমতি দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ।

বেলডাঙা অশান্তির জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে (HT_PRINT)
বেলডাঙা অশান্তির জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে (HT_PRINT)

জানা যাচ্ছে, একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিজেপির তরফে এই মামলা করা হয়েছে। তবে শুধু বিজেপি নয়, বেলডাঙার আরও এক বাসিন্দাও এই মামলার আর্জি জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে আগেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার একধাপ এগিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের হল মামলা। মূলত, ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুতে অশান্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। মামলাকারীর দাবি, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এলাকায় শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে সেনা বা আধাসেনা মোতায়েন করা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছে। সেই কারণে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগে। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ জেলায় ফিরতেই উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরোধ করা হয় রেলও। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে রাখে বিক্ষোভকারীরা। বাঁশে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবি দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসা বাধে। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় গণমাধ্যমও। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে। এই ঘটনার মধ্যে এলাকায় না যাওয়ায় সাংসদ ইউসুফ পাঠান-কে ঘিরেও প্রশ্ন উঠতে থাকে। ঘটনার তিন দিন পর তিনি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক দলের, অর্থাৎ মিমের এক নেতা রয়েছেন।