Tirthankar Ghosh: ভোট-হিংসা থেকে লটারি কাণ্ড! অজ্ঞাতবাসে গিয়েও শেষরক্ষা হল না, গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্র

Panihati ex MLA’s son arrested: বাংলায় পালাবদলের পরই তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধেও থানায় দুর্নীতি-সহ তোলাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তারপর থেকেই খোঁজ ছিল না প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্রের।

Published on: Jul 13, 2026, 12:06:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Panihati ex MLA’s son arrested: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান। অবশেষে গ্রেফতার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং লটারি প্রাপকের টাকা আত্মসাৎ ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণেশ্বর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে খড়দহ থানার পুলিশ। তীর্থঙ্কর ঘোষ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পরই প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্র (সৌজন্যে টুইটার)
গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্র (সৌজন্যে টুইটার)

বাংলায় পালাবদলের পরই তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। নির্মল ঘোষ এবং তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধেও থানায় দুর্নীতি-সহ তোলাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তারপর থেকেই খোঁজ ছিল না প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্রের। এমনকী নির্মল ঘোষও নাকি পুলিশকে এড়িয়ে চলছেন, এমন খবরও শোনা গেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পানিহাটি এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, ওই সময় এলাকায় ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়ানো এবং বিরোধীদের ওপর চড়াও হওয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি এক লটারি বিজয়ীর কোটি টাকার টিকিট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। এরপর থেকেই তীর্থঙ্কর এলাকা ছাড়া ছিলেন। তাঁকে ধরতে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সাহায্য নেয় বলে জানা গিয়েছে।

তবে তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। সম্প্রতি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। তিনি ছাড়াও তাঁর বাবা এবং পানিহাটির এক হোটেল মালিক সুশান্ত সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। হোটেল মালিককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার মূল অভিযুক্তের শিকল গিয়ে পৌঁছাল প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্রের হাতে। এদিকে, তীর্থঙ্করের বাবা তথা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরজি কর কাণ্ডের সময় পানিহাটির বিধায়ক থাকাকালীন নির্যাতিতার মৃতদেহ তড়িঘড়ি শ্মশানে দাহ করার নেপথ্যে তাঁর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। পুলিশের নজর এড়াতে দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও, সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের একটি বৈঠকে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই তাঁর পরিবার, ছেলে ও জামাইদের নানা ভাবে পুলিশ হেনস্থা করছে বলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। তবে আদালত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলেও শুনানির দিন কবে সে ব্যাপারে কোনও আশ্বাস দেয়নি।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। কিন্তু আরজি কর নির্যাতিতার মা-র কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়ের পরেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরতে শুরু করে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই পিতা-পুত্র এক ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছিলেন। তাঁদের আরও দাবি, আইন অনুযায়ী দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার হতে হবে। প্রভাবশালীদের পতনে বর্তমানে পানিহাটিজুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। পুলিশি হেফাজত শেষে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।