বারাসতে তুলকালামকাণ্ড! শমীককে কটূক্তির অভিযোগ, তৃণমূল-BJP তরজায় নামল বাহিনী
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কোনও রকমে নিয়ন্ত্রণে আসে। উত্তেজনা কমাতে রুট মার্চে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর।
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন দখলের করার জন্য রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই আবহে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা ঘিরে বারাসতের হেলাবটতলা মোড়ে ঘটল তুলকালামকাণ্ড। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তৃতার সময় কটূক্তির অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। যার জেরে মুহূর্তে মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পাল্টা তৃণমূল অটো ইউনিয়ন অফিসে চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

জানা যাচ্ছে, পার্টি অফিসের সামনে রাখা বাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। দুই দল একে অপরকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে তৃণমূলের দুই মহিলা কাউন্সিলার শিল্পী দাস ও মৌমিতা দত্ত কোনওরকমে পাঁচিল টপকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কোনও রকমে নিয়ন্ত্রণে আসে। উত্তেজনা কমাতে রুট মার্চে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। বারাসত পুলিশের আধিকারিকরা রাস্তায় নামেন। দুপক্ষকে সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া হয়। পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে বারাসত তৃণমূল নেতৃত্ব।এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে রাস্তা অবরোধ করে বেশ খানিকক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। তবে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিলে তৃণমূল কর্মীরা অবরোধ তুলে নেয়।
এই অবরোধের দরুণ সপ্তাহের প্রথম দিন ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় বারাসত শহরে। এক বিজেপি কর্মী বলেন, 'ভারতীয় জনতা পার্টিকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূলের লোকজন দুর্ভাগ্যজনক স্লোগান দিচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছিল। এরা তৃণমূলের হার্মাদ। যে সকল বিজেপি কর্মী ছিল তাঁদের দু’একজনকে ধাক্কাধাক্কি করেছে। আমরা বাধা দিই। জিজ্ঞাসা করি কেন এই সময় ঝামেলা করছে ওরা।' তৃণমূলের অপর কর্মী বলেন, 'ওরা সব ভাঙচুর করেছে। আসলে বিজেপি মানেই সন্ত্রাস। বিজেপি মানেই যে অশান্তি তা বারাসতে ফের প্রমাণিত হল।' এর আগে বারাসতে রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে এসে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'যতক্ষণ না এসআইআর-এর কাজ সব সম্পন্ন হবে ততক্ষণ নির্বাচন হবে না। জ্ঞানেশ কুমার যতই বলুন, যা হয়েছে নির্বাচন হয়ে যাক। ও বললে হবে না। নো এসআইআর, নো ভোট।' সোমবার নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এমনটাই বললেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, 'বিজেপির দেওয়া ফর্ম সেভেন যা জমা পড়েছে, পুলিশ যা বাজেয়াপ্ত করেছে প্রত্যকটা খুঁটিয়ে দেখতে হবে।' জ্ঞানেশ কুমারকে রবিবার রাতে এবং সোমবার সকালে কালো পতাকা দেখানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'প্রথম দিন থেকে আমরা বলে এসে ছিলাম আপনি আসুন। এসে দেখুন। উত্তর ২৪ পরগনা যান। দক্ষিণ ২৪ পরগনা যান। বীরভূম যান। মুর্শিদাবাদ যান। সরজমিনে এসে দেখুন। এতদিন এসে দেখেননি এখন বুঝুন।'
E-Paper











