TMC Councilor on Abhishek Banerjee: 'অভিষেক বন্দ্যোরাধ্যায় মার খান...', বললেন একদা 'সেনাপতি' ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর
অরূপ চক্রবর্তী কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ ছাড়তেই বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে মার খান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় মার খেয়েছিলেন।' উল্লেখ্য, একদা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই অরূপ।
একদা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এহেন অরূপ চক্রবর্তী কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ ছাড়তেই বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের আজকের বেহাল দশার জন্য নাকি 'সিকিউরিটি নিয়ে ঘোরা নেতারা' দায়ী। এরই সঙ্গে অভিষেককে নিয়ে সরাসরি অরূপ বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে মার খান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাস্তায় মার খেয়েছিলেন।' এবিপি আনন্দে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, এতদিন অনেক ইস্যুতেই তিনি নিজের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে বক্তব্য পেশ করেছেন। সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, তৃণমূ না ছাড়লেও দলের মুখপাত্রের পদও তিনি ত্যাগ করছেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভাডুবির পর থেকেই দলের অন্দরে অভিষেকের বিরুদ্ধে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রাক্তন বহু বিধায়ক, সাংসদ, বহু কাউন্সিলর, মুখপাত্ররা বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেছিলেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। আবার এই অভিষেককেই সম্মান জানাতে সব নেতাদের বৈঠকে দাঁড়াতে বলেছিলেন মমতা। এহেন অভিষেক ভোটের আগে 'ডিজে বাজাব', 'বিরোধীদের হার্ট অ্যাটাক হবে, তাই ফলতায় বৈদ্যুতিক চুল্লি করে দেব' মন্তব্য করেছিলেন। সেটারও সমালোচনা করেছেন অরূপ। তাঁর কথায়, এক রাষ্ট্রনেতার এহেন মন্তব্য কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরই সঙ্গে অবশ্য অরূপ স্বীকার করেন, একটা সময় অভিষেকের রাজনীতি তাঁর ভালো লাগত। দলের অন্দরে অভিষেক সংস্কার করার চেষ্টা করেছিলেন।
এদিকে অরূপের স্পষ্ট বক্তব্য, জনাদেশকে মেনে নিতে হবে। ২০২৬ এ হেরে গিয়েছি সেটা যদি মানতে না-পারি, তাহলে ২১শে আমাদের বিপুল জয়টা মিথ্যে হয়ে যায়। তাহলে ২০১৬ র জয় টা মিথ্যে হয়ে যায়, ২০১১ র জয়টা মিথ্যে হয়ে যায়। গণতন্ত্রে মানুষের উপরে কেউ নেই। তিনি বলেন, 'সারাজীবন কেউ ক্ষমতায় থাকবে না। সেটা হতে পারে না। কিন্তু যখন দলের কর্মীরা বিপদে তখন কেষ্টবিষ্টু নেতৃত্ব কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যখন রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হচ্ছে তখন সেই সেলিব্রিটি নেতৃত্ব কোথায়? তাদের দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এত দিন যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন, যাঁরা এতদিন সুবিধা নিয়েছিলেন, তাঁরা এখন কোথায়?'
কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর বলেন, 'আজ আমরা কর্মীরা রয়েছি, নেতারা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি এও বলেন, ৪ তারিখ, ফলপ্রকাশের দিন যাঁরা ভাঙচুর করেছেন, তারা বেশিরভাগই দুপুর ১২ টার পর হওয়া বিজেপি। এই আবহে আমি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের যে বার্তা দিয়েছেন তাকে সাধুবাদ জানাব, কারণ ২০২১ সালে আমরা এমন কোনও বার্তা দিতে পারিনি।' এদিকে নিজের দলের বিগত সরকারকে তোপ দেগে অরূপ চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজের ইস্যুটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'এতদিন ধরে এই কাজটা আটকে ছিল। এর কোনও যুক্তি আমার কাছে ছিল না। মানুষ এখন দেখলেন ৫ দিনে কাজটা হয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো বৃহস্পতি থেকে রবিবার পর্যন্ত কোনও এক সপ্তাহে এই কাজটা করতে দেওয়া যেত।'
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


