TMC Manifesto for Nandigram: 'পাখির চোখ' নন্দীগ্রাম! শুভেন্দুগড় দখলে নতুন স্ট্রাটেজি তৃণমূলের
TMC Manifesto for Nandigram: একুশের নির্বাচনে পাখির চোখ ছিল নন্দীগ্রাম। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেবার লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রাম থেকে।
TMC Manifesto for Nandigram: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ছাব্বিশের মহারণ। আর তাই উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। দিন রাত এক করে জনসংযোগ বৃদ্ধির জন্য ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে এবারের নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি যে ‘পাখির চোখ’ করেছে রাজ্যের শাসকদল তা ফের একবার বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই ভোটের ঠিক শেষ মুহূর্তে নন্দীগ্রামকে নিয়ে নয়া স্ট্রাটেজি ঘাসফুল শিবিরের। দলের ইস্তাহার নয়-এবার নন্দীগ্রামের জন্য আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এটা যে একটি বড় চাল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

একুশের নির্বাচনে পাখির চোখ ছিল নন্দীগ্রাম। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেবার লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রাম থেকে। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবনীপুরে লড়াই করবেন শুভেন্দু। আর নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরই এককালীন ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা পবিত্র কর, তাই স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশা বাড়ছে কে কত আসনে জয়ী হবে। ফলে, ভবানীপুর আর নন্দীগ্রাম দুটোই যে ঘাসফুল শিবিরের জন্য ‘প্রেসটিজ ফাইট’ বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি হল গড় ধরে রাখার জায়গা আর অপরটি হল গড় ছিনিয়ে নেওয়া জায়গা। তাই নন্দীগ্রামকে আলাদা করেই যে বিদায়ী শাসকদল গুরুত্ব দিচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইতিমধ্যে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার স্রেফ নন্দীগ্রামের জন্য আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা প্রতিশ্রুতি কেন? মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে নন্দীগ্রামের জন্য আলাদাভাবে একটি ইস্তেহার প্রকাশ করেছে দল। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক, দলের মুখপাত্র প্রতিকুর রহমান, গায়ক কেশব দে, শেখ সুফিয়ান-সহ নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর ছাড়াও নেতৃত্বরা।
তৃণমূলের নন্দীগ্রাম ইস্তাহারে কী কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল?
১) হলদি নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।
২) নন্দীগ্রামের পুরনো সমস্ত নতুন সমস্ত রাজনৈতিক মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আগামী দিনে একটি ফাস্ট ট্রাক আদালত গঠন করা হবে।
৩) নন্দীগ্রামের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজের রূপান্তরিত করা হবে।
৪) হরিপুরের কৃষি বাজারের আধুনিকিকরণ করা হবে।
৫) নন্দীগ্রামের মৎস্যজীবীদের জন্য একটি কোল্ড স্টোরেজ করা হবে।
৬) এছাড়াও নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের খোদাম বাড়িতে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও এই ইশতেহারে প্রকাশ করে তৃণমূল।
৭) নন্দীগ্রামে একটি আধুনিক কমিউনিটি হল তৈরি করার পরিকল্পনা।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজনৈতিক ময়দানে এতোটুকু জমি ছাড়তে নারাজ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্তেহার নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে বেশ চাপে ফেলতে চায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
E-Paper

