TMC Leader Arrested: দেবরাজ নিয়ে ধোঁয়াশা, এরই মাঝে পুলিশের জালে তৃণমূল কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ নেতা
প্রায় দু’বছর আগে এক প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় মামলাও দায়ের হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, সে সময় তিনি ফেরার থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরে থানায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নেন সমরেশ চক্রবর্তী। কিন্তু জামিনের পরও এলাকায় তাঁর দাপট কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।
দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল বাগুইআটি থানার পুলিশ। প্রোমোটারকে মারধরের একটি পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজ চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে আটক করা হয়। এর আগে একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বাগুইআটির তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টু। প্রায় দু’বছর আগে এক প্রোমোটারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় মামলাও দায়ের হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, সে সময় তিনি ফেরার থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পরে থানায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নেন সমরেশ চক্রবর্তী। কিন্তু জামিনের পরও এলাকায় তাঁর দাপট কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের।

অভিযোগকারী প্রোমোটার আদালতে দাবি করেছিলেন, প্রভাব খাটিয়ে তাঁর অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর গত শুক্রবার প্রোমোটারকে মারধর এবং তোলাবাজির অভিযোগে সমরেশ চক্রবর্তীকে সরাসরি বাড়ি থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই ঘটনার তদন্তেই উঠে আসে অমিত চক্রবর্তীর নাম। দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবেই এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অমিত চক্রবর্তী। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।
এদিকে রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সমাজমাধ্যমে মঙ্গলবার রাত থেকেই তাঁর গ্রেপ্তারির খবর ঘিরে শুরু হয় তুমুল চর্চা। দেবরাজ চক্রবর্তী কীর্তনশিল্পী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী হিসেবেও পরিচিত। বিজেপির একাধিক নেতার পোস্ট ঘিরেই এই জল্পনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, দেবরাজ তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসাবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর। গত পুরভোটের পরে বিধাননগরের সম্ভাব্য মেয়র বা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছিল।
খবর ছড়ায়, উত্তর ২৪ পরগনার এই প্রভাবশালী নেতাকে কোনও তদন্তকারী সংস্থা আটক করেছে। যদিও রাত পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র মারফত দাবি করা হয়, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তোলাবাজি এবং দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাজমাধ্যমে ‘পাপ বিদায়’ মন্তব্য করে পোস্ট করেন। এরপরই সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্নচিহ্ন-সহ দেবরাজের নাম উল্লেখ করে পোস্ট করেন। আরও কয়েকজন বিজেপি নেতাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই দাবি করেছেন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


