'গুটখার খরচ দিদিই দেবেন!' 'যুব সাথী' নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতার
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিরোধীরা। ফলে অস্বস্তি বেড়েছে শাসক দলের।
রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে 'যুব সাথী' প্রকল্পের ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন বেকার যুবক-যুবতীরা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই এই ভাতার টাকা যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। আর এই 'যুব সাথী' প্রকল্প নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে চরম বিতর্কে জড়ালেন ময়নাগুড়ি টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সেন। রাজ্য সরকারের ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ভাতার সঙ্গে গুটখা খাওয়ার খরচকে গুলিয়ে ফেলে এখন জোর অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।

কী বলেছেন তৃণমূল নেতা?
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি জলপাইগুড়িতে সভা করবেন তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর রাজ্য সভাপতি কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবেই ময়নাগুড়ি তৃণমূল কার্যালয়ে জেলা জয় হিন্দ বাহিনীর একটি সভা আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েই বিশ্বজিৎ সেন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ তোলেন। তখনই তিনি বলেন, 'দিদি আমাদের কল্পতরুভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা দিলেন। মহিলাদের ভোটটা একটা দৃঢ় জায়গায় চলে গেল। পাশাপাশি আমাদের ভোটটা একটু নেগেটিভ দিকে ছিল। সেটাও কিন্তু আমাদের যুব সাথীর মাধ্যমে একটা বড় বার্তা দিদি দিয়ে দিলেন। সেটা আমাদের প্রচারে তুলে ধরতে হবে। আজকালকার যুবকদের একটা বড় অংশ পান গুটখা খায়। তাদের ওই জায়গায় সাহায্য হবে। বলতে হবে, তোর তো মাসে এক হাজার টাকা গুটখার খরচ হয়। ওই টাকাটা তো দিদি দেবেন।' তৃণমূলের ভোটে জেতা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে তিনি মনে করেন। ইতিমধ্যে তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা।
শাসক-বিরোধী তরজা
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিরোধীরা। ফলে অস্বস্তি বেড়েছে শাসক দলের। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আসল কথা বেরিয়ে এসেছে। ২৮ টাকার চোলাই মদটা বলেননি। ওটা আমি বলে দিচ্ছি। পান গুটখা আর ২৮ টাকার চোলাই মদ খেয়েই বাংলার যুবসমাজ যুব সাথী হয়ে থাকবে। এই যুবদের সাথী হচ্ছে এগুলোই। তৃণমূলের পার্টি ক্লাসে যেগুলো শেখানো হয়, সেটাই বলে ফেলেছেন। আসল কথা, এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, আগামী ৫ বছর সরকার কোনও পাকা চাকরি দেবে না।' অন্যদিকে, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে শোরগোল পড়তেই শাসকদল দাবি করে, ভিডিওটি এআই-দিয়ে তৈরি করেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ির যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রামমোহন রায় বলেন, 'বিশ্বজিৎ সেনের নেতৃত্বকে বিজেপি ভয় পাচ্ছে। এটা এআই দিয়ে বানানো ভিডিও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পকে খাটো করতেই এই ভিডিও বানানো হয়েছে।'
যদিও বেগতিক দেখে সুর বদলেছেন বিশ্বজিৎ সেন। বিতর্ক বাড়তেই তিনি বলেন, 'আমি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুগান্তকারী যুব সাথী প্রকল্পের উপকারিতার কথা তুলেছিলাম। কাউকে গুটখা খেতে বলিনি। বিজেপির ‘গুটখাখোর’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেছি, বিজেপি বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে তাঁদের কাছে পালটা যুব সাথী প্রকল্পের কথা তুলে ধরতে হবে। যাতে বিজেপি নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্পের ব্যাপারে বুঝতে পারেন।' তবে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা নেত্রী মহুয়া গোপ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দলের অন্দরেই বিশ্বজিতের মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে, হয়েছে তা নীচুতলার কর্মীদের কানাঘুষোতেই পরিষ্কার।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে গিয়ে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, অগস্ট থেকে যুব সাথী প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের মাসে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হবে। ৫ বছর পর আবার পর্যালোচনা হবে। তবে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে। আবেদন গ্রহণের জন্য ফেব্রুয়ারিতে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে ক্যাম্প হবে।
E-Paper











