'বাংলাদেশ-নেপালের মতো আন্দোলন...,' উত্তরবঙ্গ থেকে বড় হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

আইনি লড়াইয়ের কথাও জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। তৃণমূল নেতাদের এই মন্তব্যকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Published on: Mar 06, 2026 1:39 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ ইস্যুতে এবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে নামতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় প্রতিষ্ঠান বিরোধী ঝড় মজবুত করতে অমিত শাহ-নীতিন নবীনরা যখন পরিবর্তন যাত্রা বের করেছেন, ঠিক তারই মধ্যে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রো চ্যানেলে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির প্রায় সব বিধায়ক জেলা পরিষদের নেতা লোকলস্কর নিয়ে সকাল থেকে রওনা হয়ে গেছেন সেখানে পৌঁছনোর উদ্দেশে। সব মিলিয়ে সাজো সাজো ব্যাপার। তার আগেই একটি সভা থেকে দলের সংখ্যালঘু সেলের তরফে রীতিমতো বাংলাদেশের অনুকরণে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল নেতৃত্ব।

উত্তরবঙ্গ থেকে বড় হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের
উত্তরবঙ্গ থেকে বড় হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের তরফে একটি সভা করা হয়। ওই সভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেয়, আগামীতে যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, সেই তালিকায় যদি সব জীবিত ভোটারদের নাম না থাকে তাহলে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন করতে দেবেন না তাঁরা। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের অঞ্চল সভাপতি মেহেবুব আলম, উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল মাদারের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান। উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী ভোটার। তাঁরাও তাদের নাম সংযোজনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের তরফে এক কদম এগিয়ে আরও বলা হয় যে প্রয়োজনে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলন করা হবে। তাদের দমাতে যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে তবে তাদের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতের পথে যেতে পিছপা হবে না বলে দাবি তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের।

পাশাপাশি, আইনি লড়াইয়ের কথাও জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। তৃণমূল নেতাদের এই মন্তব্যকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, এসআইআরে জলপাইগুড়ি জেলায় ১,৬৫,১০৮ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়াও এডজ্যুডিকেশন তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮ হাজার। জেলায় ১০ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটারের নথিপত্র খতিয়ে দেখার কাজ করছেন। এসআইআর শুরুর আগে জেলায় মোট ভোটার ছিল ১৯১৪০২২ জন। কিন্তু এসআইআর শুরুর পর মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে বাদ যায় ১,৩৩,১০৭ জনের নাম। এরপর লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ডাক পান ২,৭৫,৪০২ জন ভোটার। অন্যদিকে, আনম্যাপ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ৭৭৪৪০ জন ভোটার। হিয়ারিং-এর পর এবারে বাদ পড়ল ৩২,৭৮৫ জন ভোটারের নাম। শেষমেশ জলপাইগুড়ি জেলার মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৮৯১৪ জন।

এদিকে, তৃণমূলের নির্বাচন করতে না দেওয়ার বিষয়টিকে বিজেপির তরফে ফাঁকা আওয়াজ বা হাওয়া গরম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সৌজিত সিংহ। তিনি বলেন, 'দেশে জামাতের সরকার নেই। তাই তৃণমূল নেতাদের সংযত হয়ে মন্তব্য করাই ভালো।' একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেক বিজেপি নেতা কর্মীদের নামও বিচারাধীন রয়েছে। তাই তাঁরাও উদ্বিগ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে নাম অবশ্যই কাটা যাবে।