Humayun Kabir: ‘খুন করে পুঁতে দেওয়ার' হুমকি! হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ TMCর, শোকজের আর্জি

Humayun Kabir: তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে এমন কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়, যা নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে। এমনকী কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাও উচিত নয়।

Published on: Apr 17, 2026 12:21 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Humayun Kabir: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। নতুন দল খোলার পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। এবার তাঁর একটি বক্তব্যের ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে হুমায়ুন মারাত্মক হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস।

হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ TMCর (PTI)
হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ TMCর (PTI)

তৃণমূলের তরফে দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়েছে, হুমায়ুন কবীর একটি সাংবাদিক বৈঠকে যে ধরণের ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা কেবল অবমাননাকর নয়, বরং রীতিমতো অপরাধমূলক। শাসকদলের অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিওতে মারাত্মক হুমকি দিয়েছেন তিনি। ভিডিওটিতে হুমায়ুন কবীরকে ‘খুন করে বডি পুঁতে দেওয়ার’ হুমকি দিতে দেখা গেছে বলে তৃণমূলের দাবি। এর পাশাপাশি, ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন হুমায়ুন। বেলডাঙা ২ নম্বর ব্লকের মইনুল হক রানার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পিএ সুমিত রায় সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করেছেন ওই প্রার্থী। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ধরণের হুমকির মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর আসলে ভোটারদের প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন।

শাসকদলের অভিযোগ, হুমায়ুনের এই আচরণে ভঙ্গ হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমায়ুনের এই বক্তব্য আদর্শ আচরণবিধির একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনও কুৎসা করা যাবে না। ভিত্তিহীন এবং যাচাই না করা কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করা যায় না। ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্ররোচিত করা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে এমন কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়, যা নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে। এমনকী কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাও উচিত নয়। ভোটারদের ঘুষ দেওয়া, ভয় দেখানো, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার চালানো কাম্য নয়। কোনও কিছু প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের মন্তব্য অনুচিত। কমিশনকে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা এই অভিযোগে কমিশনের কাছে তাদের স্পষ্ট আবেদন, হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে ‘শো-কজ’ বা শোকজ নোটিশ পাঠাতে হবে। এছাড়াও, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা (যেমন ৩৫৬, ৩৫১, ১৭৪) অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিতে হবে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের আগে এই ধরণের আচরণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এটা ঘটনা, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন হুমায়ুন প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ মইনুল হক রানা। তিনি বেলডাঙা ২ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি হুমায়ুন প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ পদে ছিলেন। প্রসঙ্গত, এর আগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। তখন হুমায়ুনকে সতর্কও করেছিল কমিশন। বলা হয়েছিল, এই ধরনের মন্তব্য থেকে আগামী দিনে তাঁকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছেন হুমায়ুন। নির্বাচন কমিশন এখন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।