TMC MLA on TMC Black Money: কেম্যান দ্বীপে তৃণমূলের ‘গুপ্তধন’… মানি ট্রেল খুঁজলে বাংলাদেশ যোগ! বিস্ফোরক দলেরই বিধায়ক

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেম্যান আইল্যান্ডের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্রের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, এই অর্থের ‘মানি ট্রেল’ বা অর্থের গতিপথ খুঁজলে আগামী দিনে মালদহ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একাধিক সংযোগও সামনে আসতে পারে।

Published on: Jul 16, 2026, 18:20:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

TMC MLA on TMC Black Money: তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের করস্বর্গ (ট্যাক্স হ্যাভেন) হিসেবে পরিচিত কেম্যান দ্বীপে পাচার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সঙ্গেও কয়েকজন তৃণমূল নেতার আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন চাঁচলের এই বিধায়ক।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। (PTI)
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। (PTI)

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কেম্যান আইল্যান্ডের আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্রের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, এই অর্থের ‘মানি ট্রেল’ বা অর্থের গতিপথ খুঁজলে আগামী দিনে মালদহ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একাধিক সংযোগও সামনে আসতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মালদহের এক-দু’জন তৃণমূল নেতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছেন। কেন সেই বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং অর্থের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রায় ১.৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি আনসিকিওরড লোন বা কোনও সম্পত্তি বন্ধক না রেখে নেওয়া ঋণের সূত্র কেম্যান আইল্যান্ডের একটি সেল অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, ওই অর্থ একটি হেলিকপ্টার কেনার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি কেয়ারবেল অ্যাভিয়েশন অফ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থারও উল্লেখ করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি বর্তমানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তদন্তাধীন। তাই তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ্যে আসছে না।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিনয় মিশ্রের নামও সামনে এসেছিল। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর এবার কেম্যান আইল্যান্ডের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেম্যান আইল্যান্ড, ভানুয়াতু, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, মোনাকো এবং লুক্সেমবার্গের মতো দেশ বা দ্বীপকে সাধারণভাবে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ বলা হয়। কারণ, এই দেশগুলিতে কর্পোরেট কর বা আয়করের হার অত্যন্ত কম কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই নেই। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যক্তি বা সংস্থা সেখানে কাগুজে বা ‘শেল কোম্পানি’ তৈরি করে আর্থিক লেনদেন চালানোর অভিযোগ বহুবার উঠেছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের জন্য তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অপরিহার্য।

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, যদি তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে সেই সময়ে দলের আর্থিক বিষয় দেখভাল করা নেতাদের প্রকাশ্যে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'সত্যিই যদি কিছু না ঘটে থাকে, তাহলে দলীয় নেতৃত্বের উচিত মানুষের সামনে স্পষ্ট অবস্থান জানানো।'

এদিকে, প্রসূনের অভিযোগকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, 'ভূগোলের বইয়ে কেম্যান আইল্যান্ডের নাম পড়েছিলাম। তৃণমূল না থাকলে হয়তো আর কোনওদিন এই দ্বীপগুলোর নামই শুনতাম না। এখন যাঁরা তদন্তের দাবি করছেন, আগে তাঁরা কিছু জানতেন না কেন?'

তবে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে, অভিযোগগুলিও এখনও কোনও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং সরকারি অবস্থানের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More