Babul Supriyo Update: ‘মানুষের ছদ্মবেশে সাপ’, এবার 'বেসুরো' বাবুল সুপ্রিয়? শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রশ্নবাণ
বুধবার রাতে করা দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলত্যাগ, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এগুলি তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে করা দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলত্যাগ, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এগুলি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

পোস্টের শুরুতেই বাবুল দলত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করেন। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক ও নেতৃত্বের ভরসায় নির্বাচনে জিতে এসে পরে দল পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ টেনে বাবুল উল্লেখ করেন, বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি সাংসদ পদও ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অধিকার সকলের থাকলেও সেই সিদ্ধান্তের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো প্রয়োজন।
এরপরই তিনি দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। বাবুলের বক্তব্য, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই যাঁরা দুর্নীতি, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা অন্য কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এই প্রসঙ্গে তিনি পরোক্ষভাবে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে আরও একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। বাবুল দাবি করেন, অতীতে যাঁদের নিয়ে বিতর্ক ছিল, তাঁদের অনেকেই এখন তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ। যদিও এই ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই সময়ের কিছু ব্যক্তি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারেও গিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাঁর আরেকটি মন্তব্য। কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করেই বাবুল লেখেন, তিনি কখনও ভাবেননি যে একজন ‘সাপ মানুষের ছদ্মবেশে’ তাঁদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পোস্টের শেষ দিকে নিজের প্রাক্তন দল বিজেপিকেও পরোক্ষ বার্তা দেন বাবুল। অন্য দল থেকে নেতাদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তবে বারবার তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পুরো পোস্টটিকেই ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখা উচিত। তা সত্ত্বেও তাঁর এই মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


