TMC Split Latest Update: তৃণমূলে কি এবার তিনমুখী বিভাজন? সাংসদ-বিধায়কদের পথে স্পষ্ট ফারাক
বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসদে পৃথক ব্লক গঠনের পথে হাঁটছেন, অন্যদিকে রাজ্য বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংসদে পৃথক ব্লক গঠনের পথে হাঁটছেন, অন্যদিকে রাজ্য বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—দুই নয়, তৃণমূল কি কার্যত তিনটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ছে?

রবিবার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই-এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। জানা গিয়েছে, লোকসভায় তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সাংসদদের থেকে আলাদা আসনে বসবেন।
বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই আপাতত এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের দাবি, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের দাবিদার তাঁরাই। আগামী ২১ জুলাই শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনে এই প্রশ্নকে সামনে এনে স্পিকারের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, ফলে পৃথক স্বীকৃতির দাবি আরও জোরালো হবে।
তবে রাজ্য রাজনীতিতে ছবিটা আলাদা। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিক্ষুব্ধ বিধায়করা বিজেপি সরকারের সমর্থনে সরাসরি যাওয়ার পক্ষে নন। তাঁদের দাবি, তাঁরা রাজ্যের "প্রকৃত বিরোধী শক্তি" হিসেবে কাজ করতে চান। সূত্রের খবর, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬০ জনই ঋতব্রত শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল। ঋতব্রতদের অবস্থান হল, গঠনমূলক বিরোধিতার মাধ্যমে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করা। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে সরকারকে সমর্থন করা যেতে পারে, কিন্তু বিজেপির আনুষ্ঠানিক মিত্র হিসেবে কাজ করার প্রশ্নে তারা আপাতত আগ্রহী নয়।
অন্যদিকে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী ২০ সাংসদকে নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে 'ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গল'। ওই গোষ্ঠীর লক্ষ্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া।
ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল, অন্যদিকে এনডিএ-সমর্থক বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই শিবির এবং তৃতীয়দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধায়ক গোষ্ঠী—এই তিনটি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগামী বাদল অধিবেশন এবং সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের দিকে নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


