ভোটের মুখে ঘর ওয়াপসি! শান্তনু সেনের সাসপেনশন প্রত্যাহার TMC-র, ফের ফিরছেন স্বমহিমায়?
প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।
অবশেষে স্বস্তি। ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর-কাণ্ডের সময় থেকে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেনকে। শেষমেশ দীর্ঘ ১৫ মাস পর ভোটের আগে তাঁর উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব-এর এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। সাসপেনশন প্রত্যাহারের ফলে শীঘ্রই শান্তনু সেনকে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের পর রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। এই নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়, আরজি করের ঘটনার কড়া নিন্দা করে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ভালভাবে নেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে দল। মুখপাত্র পদ থেকে সরিয়ে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করা হয়। তৃণমূল সাসপেন্ড করার পর শান্তনু সেনের বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় দু’দুবার কাউন্সিলর করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ করেছেন, দলের মুখপাত্র করেছেন। আমার স্ত্রী এখন কাউন্সিলর। আমি এতটাও বেইমান নই যে সেই দলের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করব। আমি তৃণমূলের অনুগত সৈনিক ছিলাম, আছি, থাকব।' তাই এতদিন তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত থাকলেও অন্য দলে যোগদান করার সিদ্ধান্ত নেননি শান্তনু সেন।
অবশেষে রবিবার তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শান্তনু সেনকে দল থেকে সাসপেন্ডের কথা ঘোষণা করেছিলেন জয়প্রকাশই। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, 'প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেনের সাসপেনশন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডাঃ শান্তনু সেন এখন থেকে দলের হয়ে সব রকম কাজ করতে পারবেন।' তবে কেন সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য জয়প্রকাশ মজুমদার কোনও মন্তব্য করেননি। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তের কারণে স্বস্তিতে শান্তনু সেন। আগামীদিনে তাঁকে নির্বাচনী প্রচারে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে বারবার উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গিয়েছে শান্তনু সেনকে। কিছুদিন আগেই সেবাশ্রয় শিবির করেছিলেন তিনি।
E-Paper

