ভোটের মুখেই খাস কলকাতায় শ্যুটআউট! এলোপাথাড়ি গুলিতে ঝাঁজরা তৃণমূল কর্মী, বাড়ছে রহস্য
স্থানীয়দের তরফে জানানো হয়েছে, কয়েক বছর আগে জিৎ মুখোপাধ্যায় এবং রাহুল দে-র মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তেমন যোগাযোগ ছিল না।
ক্রমেই এগিয়ে আসছে ছাব্বিশের মহারণ। ভোটের আগে খাস কলকাতায় শ্যুটআউটের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে বাঘাযতীনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক তৃণমূলকর্মীর। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পাটুলি থানার পুলিশ। আসে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও। ইতিমধ্যে দুজন পরিচিতকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে খবর। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলিতে নিহত তৃণমূলকর্মীর নাম রাহুল দে। বুধবার রাতে বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় থাকা জিৎ মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন রাহুল। পরিবারের দাবি, জিৎ ফোন করে রাহুলকে ডেকে পাঠায়। স্থানীয়দের দাবি, রাত সাড়ে ১২ টার পর ওই বহুতলের ছাদ থেকে হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শোনা যায়। একাধিকবার গুলির শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে বলে দাবি এলাকার মানুষের। অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চলার কথা জানা গেছে। যার জেরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার খবর দেওয়া হয় পাটুলি থানায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পাটুলি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। এরপর পুলিশ ছাদে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় ২ যুবককে পড়ে রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাহুলের। যদিও আহত অবস্থায় জিৎকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের তরফে জানানো হয়েছে, কয়েক বছর আগে জিৎ মুখোপাধ্যায় এবং রাহুল দে-র মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তেমন যোগাযোগ ছিল না। এদিকে, ওই বহুতলে জিৎ মুখোপাধ্যায়ের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মৃত তৃণমূল কর্মী রাহুল দে-র পরিবারের দাবি, জিৎ ফোন করে রাহুলকে হঠাৎ নিজের ফ্ল্যাটে ডেকেছিলেন। সেই সূত্রেই রাহুল সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু এত বছর যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর আচমকা কেন রাহুলকে ডাকা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে আসেন লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও। কীভাবে এই ঘটনা তা জানতে ইতিমধ্যে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকায় থাকা সিসিটিভিগুলিও। এমনকী আহত জিৎ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রীকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে আহত ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানিয়েছেন, গতকাল রাতে আচমকাই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে আসে এবং শ্যুটআউটের মতো ঘটনা ঘটায়। রাতে আসা ব্যক্তিদের কাউকেই তিনি চেনেন না বলেও জানিয়েছেন বলে খবর। আর সেটাই তদন্তকারী আধিকারিকদের ভাবাচ্ছে। কারা এসেছিল ফ্ল্যাটে, কী তাদের পরিচয়, কেনই বা তারা গুলি চালাল – সব নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় এক রহস্য। ফলে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একেবারে জোরকদমে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে, ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত ভয়ের ভীত ছড়িয়েছে এলাকায় জুড়ে। আগামী মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হওয়ার কথা কিন্তু তার আগেই গভীর রাতে খাস কলকাতার বুকে এই খুন স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিছুদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার সোনাপুকুর শংকরপুরে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। তাঁর ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধনগ্ন দেহ হাড়োয়া থানা এলাকার সোনাপুকুর শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নব্বই পাট ঘেরির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ভোটের আবহে এই ঘটনায় রীতিমত ঝড় উঠেছিল রাজ্য রাজনীতিতে।
E-Paper

