TMC's Anubrata Mondal on 21 July: ডিম-ভাত পেত না বীরভূমের কর্মীরা? ২১ জুলাইয়ের আগে মমতা শিবিরকে কটাক্ষ অনুব্রতর
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'আগে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে আমরা শহিদ মঞ্চে পৌঁছতাম। কলকাতা থেকে কোনও খরচ দেওয়া হত না। জেলার সাধারণ মানুষ ভোরবেলা উঠে মুড়ি খেয়ে কষ্ট করে সভায় আসতেন। অথচ মঞ্চের সামনের আসন দখল করে থাকতেন চলচ্চিত্র জগতের তারকারা।'
TMC's Anubrata Mondal on 21 July: ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার সেই আবহেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন। সম্প্রতি তিনি মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ‘আসল’ তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে বলেও জানা গিয়েছে।

দলবদলের পর থেকেই অনুব্রত মণ্ডল একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন। এর আগে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এবার তাঁর নিশানায় ২১ জুলাইয়ের ধর্মতলার পুরনো শহিদ সমাবেশ। অনুব্রতর অভিযোগ, অতীতে জেলার সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে কলকাতায় আসতেন। তিনি বলেন, 'আগে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে আমরা শহিদ মঞ্চে পৌঁছতাম। কলকাতা থেকে কোনও খরচ দেওয়া হত না। জেলার সাধারণ মানুষ ভোরবেলা উঠে মুড়ি খেয়ে কষ্ট করে সভায় আসতেন। অথচ মঞ্চের সামনের আসন দখল করে থাকতেন চলচ্চিত্র জগতের তারকারা।' উল্লেখ্য, এর আগে জেলা থেকে ২১ জুলাইয়ের উদ্দেশে আসা কর্মীদের জন্য ডিম-ভাতের আয়োজন করত তৃণমূল। তবে অনুব্রতর কথা থেকে ইঙ্গিত মিলছে, তাঁর জেলার কর্মীরা সেই সব হয়ত পেতেন না। বদলে, ২১ জুলাইতে ট'আসল দাম' পেতেন সেলিব্রিটিরা।
তবে কেষ্টর দাবি, এবার সেই পরিস্থিতি আর নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রকৃত অর্থেই শহিদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে। অনুব্রত বলেন, 'এবার সত্যিকারের শহিদদের স্মরণ করা হবে। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদেরই গুরুত্ব দেওয়া হবে।' ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে সফল করতে বীরভূম থেকে প্রায় ২০ হাজার কর্মী-সমর্থককে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ঋতব্রতপন্থীদের কর্মসূচিতে বীরভূমের সাংগঠনিক শক্তির বড় প্রদর্শন হবে। সেই লক্ষ্যেই জেলা জুড়ে প্রস্তুতি চলছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যত বেশি সম্ভব কর্মী-সমর্থককে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ঋতব্রত শিবির। অনুব্রতর বক্তব্য, অনুমতির সীমা মেনে সংগঠনের শক্তি দেখানোই তাঁদের লক্ষ্য।
এদিকে অনুব্রত মণ্ডলের এই দাবি ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল কটাক্ষ করে বলেন, সরকার বদলের পর জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডল ২০০ জন কর্মী-সমর্থকও জোগাড় করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির— দুই পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই আবহে অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন নজর মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে, যেখানে দুই শিবিরের শক্তি ও জনসমর্থনের ছবি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


