RG Kar Case: তাঁর সাক্ষীতেই অভয়ার দাহ! গ্রেফতারি এড়াতে আগেভাগেই হাইকোর্টে সেই পাড়ার 'কাকু'

RG Kar Case: কলকাতা হাইকোর্টে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জোরালো অভিযোগ করেন যে, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে এই জঘন্য ও মিথ্যা মামলায় জোর করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। 

Published on: May 19, 2026 4:08 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

RG Kar Case: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নারকীয় ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি এবং আইনি লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিনিয়ত নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির অবিলম্বে গ্রেফতারি চেয়ে সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতার মা, যিনি বর্তমানে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়কও বটে। ওই তালিকায় নির্মল ঘোষ ছাড়া বাকি যে দুজনের নাম রয়েছে, তাঁরা হলেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ও পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। আর এই পরিস্থিতি নিজেকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত করতে এবং সুরক্ষার খোঁজে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিলোত্তমার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ভাবে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট

আরজি কর মামলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়

এদিন কলকাতা হাইকোর্টে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জোরালো অভিযোগ করেন যে, তাঁর মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে এই জঘন্য ও মিথ্যা মামলায় জোর করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন। আইনজীবীর আরও অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবং তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর সঞ্জীবের বাড়ি ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। সমস্ত বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে হাইকোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের এই নতুন পদক্ষেপে আরজি করের আইনি লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

আদালতে মামলা নির্যাতিতার বিধায়ক মা'য়ের

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে এবং আরও গভীরে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতার বিধায়ক মা। সেই কেন্দ্রীয় মামলার সমান্তরালেই তিনি কলকাতার শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কড়া দাবি জানান। নির্যাতিতার মায়ের মূল অভিযোগ হল, ঘটনার দিন তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, পরিবারের সম্মতি ছাড়া তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতাল থেকে মেয়ের মৃতদেহ বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দেহ দাহ করে ফেলা হয়। নির্যাতিতার পরিবারের স্পষ্ট দাবি, অপরাধের মূল তথ্যপ্রমাণ পরিকল্পিতভাবে লোপাট এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কাজ করা হয়েছিল। আর এই দেহ দাহ করার পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল ওই তিন নেতার। শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার পরিধি বাড়তেই এবার আইনি নিষ্কৃতি বা অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়।

কে এই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়?

স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্যাতিতার বাড়ির কাছাকাছি এলাকাতেই থাকেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি মূলত ‘কাকু’ নামেই সমধিক পরিচিত। আরজি করের সেই অভিশপ্ত রাতে নির্যাতিতার দেহ পানিহাটি শ্মশানঘাটে নিয়ে গিয়ে যখন দাহ করা হয়, তখন শ্মশানের খাতায় ও অফিশিয়াল নথিতে এই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়েরই সই ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীবের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। এক সময় তিনি এলাকায় দাপুটে সিপিআইএম বা বামফ্রন্টের কাউন্সিলর ছিলেন। তবে পরবর্তীতে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সঞ্জীব এবং নির্মল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন। সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় যেহেতু ওই নির্যাতিতার একই এলাকার বাসিন্দা, তাই তাঁর এই নাম জড়িয়ে যাওয়া নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা আইনি পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।