গোড়ালির অপারেশন করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বৃদ্ধার, বনগাঁর নার্সিংহোমে উত্তেজনা

সুচিত্রা দেবীর স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক অম্লান দের নামে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

Published on: Feb 18, 2026, 21:41:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বেসরকারি হাসপাতালে গোড়ালির অপারেশন করতে গিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বনগাঁয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বনগাঁ থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

অপারেশন করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বৃদ্ধার (সৌজন্যে টুইটার)
অপারেশন করতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি বৃদ্ধার (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার যশোর রোড সংলগ্ন এক নার্সিংহোমে। মৃতার নাম সুচিত্রা বিশ্বাস (৬৬)। বনগ্রামের ঠাকুরপল্লীর বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী সুচিত্রা বিশ্বাস গত ১২ ফেব্রুয়ারি পায়ের গোড়ালি ভেঙে যাওয়ায় ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ, ১৬ ফেব্রুয়ারি ডা. অম্লান দে তাঁর পায়ের অস্ত্রোপচার করেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখে বাড়ি ফিরে যান। সেসময় রোগী ঠিক ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি। কিন্তু পরিবারের দাবি, পরের দিন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা নাগাদ ভিজিটিং আওয়ারে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাঁদের বিভিন্ন অজুহাতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর মৃতার কন্যা জোর করে ওয়ার্ডে ঢুকে নির্দিষ্ট বেডে রোগীকে দেখতে না পেয়ে বাইরে এসে বিষয়টি অন্যান্যদের জানান।

তারপর নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, সুচিত্রা দেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। তার কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, সুচিত্রা দেবীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আরও দাবি, সুচিত্রা দেবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায়নি। মৃতার স্বামী বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে ডেকে নিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি নিয়ে কোথাও অভিযোগ না জানানোর অনুরোধ করা হয়। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু ঘটেছে ওই রোগীর। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয় হাসপাতালের তরফে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বনগাঁ থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে সুচিত্রা দেবীর স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক অম্লান দের নামে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এবং ঘটনার তদন্ত করে সুচিত্রা দেবীর মৃত্যুর পিছনে যাঁরা দায়ী, তাঁদের আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন। মৃতের এক পরিজন বলেন, 'সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, একদিন অবজার্ভেশনে রেখে তারপর ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু, পরদিন হাসপাতালে এলে অদ্ভুত আচরণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমাদের রোগীর কী সমস্যা হয়েছে, কিছুই বলছিল না। শুধু বলছিল, পরে, পরে। চিকিৎসার গাফিলতিতেই আমাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে।' যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্সিংহোমের চিকিৎসক অভিষেক মল্লিক। তিনি জানিয়েছেন, 'আন কন্ট্রোল ডায়াবেটিক পেশেন্ট ছিলেন সুচিত্রা বিশ্বাস। অপারেশনের পরে সব ঠিক ছিল। হঠাৎই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়েছিলাম। কিন্তু ফেরানো সম্ভব হয়নি।' গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।