Trinamool Congress: দলত্যাগ মামলায় শোভনদেবের আবেদন খারিজ, ৮ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকেই
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় এক মাসের মধ্যে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণের জল্পনা তৈরি হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে করা আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিধানসভার স্পিকারের উপরই বহাল রাখা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারকে ওই আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। ভোটের ফল প্রকাশের প্রায় এক মাসের মধ্যে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণের জল্পনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ওই শিবিরে আরও কয়েকজন বিধায়ক যোগ দেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রতীক ও আর্থিক সম্পদের উপর নিজেদের অধিকার রয়েছে বলেও দাবি তোলা হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরের ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার আবেদন করেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত ৮ জুলাই তিনি বিধানসভার স্পিকারের কাছে সংশ্লিষ্ট আবেদন জমা দেন। অভিযোগ ছিল, দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে আবেদন জমা পড়ার পর বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেও স্পিকারের তরফে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। এর পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। তাঁর আবেদনের মূল লক্ষ্য ছিল, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া।
কিন্তু সোমবার সেই আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বিধায়কদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব স্পিকারের কাছেই রয়েছে। তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৮ অক্টোবরের মধ্যে এই আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে।
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, আদালত নিজেরাও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলতে সমস্যার মুখে পড়ে। তাই নির্দেশ দেওয়ার সময় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্পিকারকে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শীর্ষ আদালতে শোভনদেবের হয়ে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলায় কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী কপিল সিব্বলও সওয়াল করেন। পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করলেও স্পিকারকে সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনটির নিষ্পত্তির জন্য তিন মাস পর্যন্ত সময় রয়েছে এবং সেই সময়সীমার শেষ তারিখ হিসেবে ৮ অক্টোবরকে সামনে রাখা হয়েছে।
ফলে এখন নজর থাকবে বিধানসভার স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের বিধানসভা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


