রিসর্টকেও টেক্কা টুলুর প্রাসাদে! দিনভর তল্লাশির পর মধ্যরাতে সিল, বের করে দেওয়া হল সকলকে
বৃহস্পতিবার প্রায় টানা ১৫ ঘণ্টা তল্লাশির পর টুলুর সিউড়ির বাড়ি সিল করেন তদন্তকারীরা। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় পরিচারিকা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও। বের করে দেওয়া হল টুলু মণ্ডলের পোষ্য সারমেয় লিলিকেও।
কোথায় রয়েছেন টুলু মণ্ডল? তাঁর ভগ্নিপতি মিনারের গ্রেপ্তারির পর থেকে বারবার উঠছে সে প্রশ্ন। তদন্তকারীদের অনুমান, সম্ভবত বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। যদিও সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। এদিকে, বৃহস্পতিবার প্রায় টানা ১৫ ঘণ্টা তল্লাশির পর টুলুর সিউড়ির বাড়ি সিল করেন তদন্তকারীরা। বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় পরিচারিকা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও। বের করে দেওয়া হল টুলু মণ্ডলের পোষ্য সারমেয় লিলিকেও।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাথর এবং বালি ব্যবসার ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের একাধিক ঘাঁটিতে হানা দেয় পুলিশ। মিনার মণ্ডলের টাকার উৎস খুঁজতে টুলু মণ্ডলের সিউড়ির সুভাষপল্লির বাড়িতে জেলা পুলিশের একটি দল হানা দেয়। ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য, সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ি থেকে নগদ ৮ লক্ষ টাকা এবং ১৫০ গ্রাম সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
যে বাড়িটি সিল করেছেন তদন্তকারীরা, কী নেই সেখানে। ‘পাথরসম্রাট’ টুলুর বাড়ি যেকোনও বিলাসবহুল রিসর্টকে হার মানায়। রাস্তার পাশে বিশাল দরজা দিয়ে ঢুকেই সাজানো লন। সেখানে বিদেশি ও বাহারি গাছ। সারিবদ্ধ ছোট ছোট ঝাউগাছ। ওই বাগানের যে পরিচর্যার কোনও অভাব নেই, তা দেখেই বোঝা যায়। সেখানেই দাঁড়িয়ে চারতলা অট্টালিকা। ভিতরে রয়েছে একতলা থেকে অপরতলায় যাতায়াতের জন্য লিফট। এছাড়া সেখানে রয়েছে জিম। দামি শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি রয়েছে সেখানে। অবসর সময়ে বসে সিনেমা দেখার জন্য রয়েছে একটি আস্ত থিয়েটার হাউস। এছাড়া সুইমিং পুল তো রয়েছেই। মেঝে সম্পূর্ণ মার্বেলের। বাহারি আলোয় মোড়া গোটা বাড়ি। টুলু মণ্ডল বাড়ি সাজানোর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তা দরজা, জানলা দেখেই স্পষ্ট। টুলুর বাড়িতে রয়েছে দু’টি গ্যারেজ। সেখানে রয়েছে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি। সিউড়ির পৈতৃক বাড়ি সোঁৎশালে। এছাড়া মহম্মদবাজারে বিশাল ট্রাক ও লরি পার্কিংও রয়েছে টুলুর। সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর রাজপ্রাসাদ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় তদন্তকারীদের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


