তুরস্কের পাসপোর্ট তোপ! মুক্তিপণের দাবিতে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণ, পুলিশের জালে ২
অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে হুমায়ুন কবীর ও অচিন্ত্য পালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
পাসপোর্ট ভিসা করিয়ে দেওয়ার নাম করে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে অপহরণের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরতলিতে। অভিযোগ, তাঁদের আটকে রেখে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। কিন্তু এরপরেও আরও টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। ঘটনার তদন্তে নেমে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে, যার মধ্যে একজন আবার বাংলাদেশি নাগরিক।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন আগেই বৈধ ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের দুই নাগরিক রাজীব লস্কর এবং জুনায়েদ মিয়াঁ কলকাতায় আসেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ভারত হয়ে তুরস্কে যাওয়ার। আর সেই ভিসা করার জন্য অচিন্ত্যকুমার পালের সঙ্গে রাজীব এবং জুনায়েদের কথাবার্তা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত বাংলাদেশি ওই নাগরিক হুমায়ুন কবীরই অচিন্ত্যকুমার পালের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন রাজীব এবং জুনায়েদের সঙ্গে। এরপরেই পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নাম করে ওই দুই বাংলাদেশিকে একটি জায়গায় ডাকা হয়। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পরই দু’জনকে আটকে রাখা হয়। পরিবারের কাছে যোগাযোগ করে তিন লক্ষ টাকা দাবি করা হয় মুক্তিপণ হিসেবে। যে টাকা বাংলাদেশে একটি ব্যাঙ্ক থেকে অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোও হয়। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি দাবি। আরও অর্থ চাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরমধ্যেই পুরো ঘটনার কথা জানতে পারেন পুলিশ আধিকারিকরা। সেই মতো শুরু হয় তদন্ত। আর সেই তদন্তের সূত্র ধরে একটি হোটেলে অভিযান চালায় টেকনোসিটি থানার দল। সেখান থেকেই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগে হুমায়ুন কবীর ও অচিন্ত্য পালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অপহরণের নেপথ্যে কেবল অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনও লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ জড়িত। দুই বাংলাদেশির সঙ্গে ধৃত হুমায়ুন কবীরের সম্পর্কও যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে। মঙ্গলবার ধৃত দু’জনকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনার জেরে সীমান্তপারের ভিসা দালাল চক্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
E-Paper

