Cooch Behar News: ‘তোলাবাজির’ টাকা ফেরত! মাঠে ডেকে বাসিন্দাদের হাতে নগদ তুলে দিলেন তৃণমূল নেতারা

Cooch Behar News: রবিবার মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরেরকুঠি এলাকায় স্কুলমাঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের একত্রিত করা হয়। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া, জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানো-সহ নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। 

Published on: May 31, 2026, 20:26:25 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cooch Behar News: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই চাপে তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। পুলিশের অ্যাকশনে একের পর এক নেতারা গ্রেফতার হচ্ছেন। এদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙায় আরও একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এবার দেখা গেল, এলাকাবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া সেই কাটমানি ফেরত দিলেন তৃণমূলের নেতারা। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।

কোচবিহারে তোলাবাজির টাকা ফেরালেন তৃণমূল নেতারা
কোচবিহারে তোলাবাজির টাকা ফেরালেন তৃণমূল নেতারা

রবিবার মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরেরকুঠি এলাকায় স্কুলমাঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের একত্রিত করা হয়। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া, জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানো-সহ নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূল নেতাদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় করেছিলেন। ভয় দেখিয়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে কয়েকজন নেতাদের বিরুদ্ধে।

তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর অভিযুক্তদের অনেকেই এলাকায় আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছেন না। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের মুখে থাকা এক পঞ্চায়েত সদস্য এখনও এলাকায় অনুপস্থিত। বাড়িতে না থাকলেও টাকা ফেরাতে শুরু করেছেন অনেক তৃণমূল নেতাই। রবিবারের কর্মসূচিতে মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরেরকুঠি এলাকায় তৃণমূলের এক বুথ সভাপতি তপন দে নিজে কয়েকজন বাসিন্দার হাতে টাকা তুলে দেন। পাশাপাশি, বুথ সভাপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এলাকার ‘প্রভাবশালী’ তৃণমূল নেতা বাবাই বর্মণের বাবাও। তিনি নিজেও ছেলের অনুপস্থিতিতে কয়েকজনকে টাকা ফেরান। সুদীপ দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে কাজ না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সম্প্রতি টাকা ফেরানো হচ্ছে শুনে নাম নথিভুক্ত করেন এবং রবিবার সেই টাকা ফিরে পান। মিঠুন বর্মণ ও নিখিল বর্মণ নামে আরও দুই বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাঁদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তাঁরাও এদিন কিছু টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, মোট টাকার অঙ্ক প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিজেপির মাথাভাঙা-৪-এর মণ্ডল সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য-সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন বলে হিসাব পেয়েছি। পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত না থাকলেও দু’-একজন তৃণমূল নেতা উপস্থিত থেকে কয়েক জনকে টাকা ফেরালেন।’

যাঁরা টাকা ফেরানোর কাজে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে এই ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। টাকা ফেরানোর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও তদন্ত বা রাজনৈতিক বিতর্কের দিকে গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।