Sundarban Festival: বনবিবি পালা, ছৌ, ঝুমুর থেকে ফকিরি, বাউল- সুন্দরবনে হল ‘সুন্দেরিদম উৎসব’
ইউনেস্কো এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর সুন্দরবনের সজনেখালিতে ‘সুন্দেরিদম’ নামে একটি উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল।
ইউনেস্কো এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর সুন্দরবনের সজনেখালিতে ‘সুন্দেরিদম’ নামে একটি উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল। এই উৎসবটি কলকাতা সোসাইটি ফর কালচারাল হেরিটেজ বা কেএসসিএইচ সংগঠিত করেছিল, যা ইউনেস্কোর রুরাল ক্রাফট অ্যান্ড কালচারাল হাবস প্রকল্পের দ্বারা বাস্তবাযয়িত।

সুন্দেরিদম উৎসব পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বজায় রেখে সকলকে একত্রিত করেছে। রাজ্য জুড়ে ১০০-এর বেশি শিল্পীরা এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন, যাঁরা ছৌ, ঝুমুর, বাউল ও ফকিরি, ভাটিয়ালি, রাইবেঁশে, গম্ভীরা এবং ভাওয়াইয়া-সহ স্থায়ী লোকসংস্কৃতি উপস্থাপন করেছেন, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অধিকার, পরিচয় ও দায়িত্ব নিয়ে সংলাপকে তাদের গান ও শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছিল।
সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে অনুষ্ঠিত এই উৎসবটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন লোক শিল্প সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং সম্প্রদায়ের স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তুলে ধরেছে। আর সেই সুন্দরবনে সেই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল বনবিবি পালা। সুন্দরবনে গভীরভাবে প্রোথিত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীত নাটক, যা মানুষ, প্রকৃতি এবং বিশ্বাস ব্যবস্থার মধ্যে সহাবস্থানকে তুলে ধরে। উৎসবটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পী, কারিগর সম্প্রদায়ের গ্রামীণ সাংস্কৃতিকে আরও মজবুত ও পরিচিতি করার জন্য আয়জন করা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে, হাজার-হাজার শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলনকারী তাঁদের জীবিকার জন্য ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন। তবুও অনেকের আয় তেমন নেই বললেই চলে; সীমিত বাজার প্রবেশাধিকার এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সম্মুখীন হতে হয়। রুরাল ক্রাফট অ্যান্ড কালচারাল হাবস বা RCCH এই উদ্যোগে যুক্ত হয়।
সুন্দেরিদম উৎসবের মাধ্যমে ইউনেস্কো এবং এর অংশীদাররা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০০৩ সালের থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ইউনেস্কো কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির বৈচিত্র্যের উপর ২০০৫ সালের কনভেনশনের বাস্তবায়ন করে। বিশেষত উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে সংস্কৃতিকে একীভূত করার উপর নজর দেওয়া।
ইউনেস্কো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের সহযোগিতায়, রাজ্যের জীবন্ত ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রচার করার সময় সম্প্রদায়-ভিত্তিক জীবিকা শক্তিশালী করতে রুরাল ক্রাফট অ্যান্ড কালচারাল হাবস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগটি হস্তশিল্প, হস্তচালিত তাঁত, প্রাকৃতিক ফাইবার-ভিত্তিক কারুশিল্প, পরিবেশন শিল্প এবং লোক ঐতিহ্যের উপর কাজ করে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


