Budge Budge News: যুবকের শরীরে জরায়ু, ডিম্বনালি! অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তাজ্জব চিকিৎসকেরা, ক্রোমোজোম পরীক্ষা...
Budge Budge News: এসএসকেএম, এনআরএস-সহ একাধিক সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বক্তব্য, ‘ক্রোমোজোম স্টাডি’ করেই এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। এই ধরনের ঘটনার নজির সারা বিশ্বে খুব একটা নেই।
Budge Budge News: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! পুরুষের শরীরে মিলল জরায়ু ও ডিম্বনালি। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল চিকিৎসকদের। জানা গিয়েছে, ওই রোগীর শরীরে অণ্ডকোষও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটিকে বিরল থেকে বিরলতম বলেই দাবি করছেন চিকিৎসকরা। এর প্রকৃত কারণ জানতে যুবকের ক্রোমোজোম স্টাডির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে গোটা চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।

জানা গেছে, বছর চব্বিশের ওই যুবক বজবজের বাসিন্দা। গত সোমবার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের জন্য ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্যজেলার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরদিনই তাঁর অস্ত্রোপচার করার কথা স্থির হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা দেখেন, ওই যুবকের শরীরে রয়েছে জরায়ু এবং ডিম্বনালি। এই দুই অঙ্গই নারীদেহে থাকে। সন্তানধারণের জন্য মহিলাদের দেহে একজোড়া নলের মতো অঙ্গ থাকে। যার মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছয়। অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এইচ জামান বলেন, ‘পুরুষ হিসেবেই উনি আমার এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। অপারেশন করার সময় দেখি যুবকের দেহে জরায়ু, ডিম্বনালিও রয়েছে। এটার জন্য আমরা সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ, শুরু থেকে এই রোগীকে আমরা পুরুষ হিসেবেই জেনে এসেছি।’ এই পরিস্থিতিতে পুরুষ-মহিলার ধন্দ কাটাতে রোগীর ‘ক্রোমোজোম স্টাডি’ করার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের চিকিৎসকেরা।
এসএসকেএম, এনআরএস-সহ একাধিক সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও বক্তব্য, ‘ক্রোমোজোম স্টাডি’ করেই এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। এই ধরনের ঘটনার নজির সারা বিশ্বে খুব একটা নেই। এ ধরনের শারীরিক গঠন এতখানি বিরল যে, সাধারণ জনসংখ্যায় প্রতি কত জনের মধ্যে এ রকম দেখা গিয়েছে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কারণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির এই ধরনের শারীরিক গঠনের কথা জানাই যায় না। সাধারণত অস্ত্রোপচার বা বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।
পুরুষের দেহে নারী অঙ্গের সন্ধান মিলল কী ভাবে?
পুরুষ দেহে জরায়ু ও ডিম্বনালি থাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে 'সিউডোহেরম্যাফ্রোডিটিজম।' চিকিৎসকদের মতে, কাউকে দেখতে পুরুষের মতো হলেও জিনগত কিংবা প্রজননগত ক্ষেত্রে নারী হতে পারেন। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল অবস্থা বলেই মত চিকিৎসকদের। এসএসকেএমের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক সৌভিক চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কারও বাহ্যিক শারীরিক গঠন দেখে তার ক্রোমোজোম, হরমোনের অবস্থা কিংবা অভ্যন্তরীণ প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিরল কিছু ক্ষেত্রে জিনগত ও প্রজননগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বাহ্যিক যৌন বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য থাকতে পারে।
তিনি জানান, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা ভ্রূণের বিকাশের সময় অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাব এ ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে বাহ্যিক গঠন পুরুষের মতো হলেই জিনগত বৈশিষ্ট্য বা প্রজননক্ষমতাও পুরুষের মতো হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম, হরমোন, অভ্যন্তরীণ প্রজনন অঙ্গ এবং বহির্গত যৌনাঙ্গের গঠন বিবেচনায় নিতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্ড্রোজেনের অতিরিক্ত প্রভাবে ক্লিটোরিস স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে পুরুষাঙ্গের মতো দেখাতে পারে। এমন ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের উপস্থিতি ও গঠনও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ডায়মন্ড হারবারের ওই যুবকের দেহে অণ্ডকোষ ছিল না বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকেরা।
জরায়ু ও ডিম্বনালি থাকার সম্ভাব্য কারণ
পুরুষের দেহে জরায়ু ও ডিম্বনালির উপস্থিতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘পারসিসট্যান্ট ম্যুলেরিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম’ (পিএমডিএস) নামের একটি বিরল অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন চিত্তরঞ্জন সেবা সদনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা স্ত্রীরোগ চিকিৎসক আশিস মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, স্বাভাবিক পুরুষ ভ্রূণের বিকাশের সময় অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন বা মুলেরিয়ান ইনহিবিটিং ফ্যাক্টর (এমআইএফ) মুলেরিয়ান নালির বিকাশ বন্ধ করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে ওই নালি থেকে জরায়ু ও ডিম্বনালির মতো অভ্যন্তরীণ প্রজনন অঙ্গ থেকে যেতে পারে। তবে বজবজের যুবকের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ক্রোমোজোম বিশ্লেষণ-সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।
চিকিৎসার আগে প্রয়োজন কাউন্সেলিং
এ ধরনের ঘটনা একেবারে নজিরবিহীন নয়। প্রায় ১৮ বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে একই ধরনের একটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক উৎপল দে। বর্তমানে তিনি এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান। উৎপল দে জানান, ওই রোগীরও হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের সময় ডিম্বনালির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপের আগে রোগীর নিজস্ব পরিচয় ও পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে যেভাবে জেনে ও বুঝে এসেছেন, চিকিৎসার নামে সেই পরিচয়কে উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাই প্রথমে রোগীর কাউন্সেলিং করা দরকার। এরপর তার ইচ্ছা ও প্রয়োজনকে মর্যাদা দিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের বিরল শারীরিক গঠনের কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি রোগীর মানসিক স্বস্তি, ব্যক্তিগত পরিচয় ও মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
E-Paper

