Vande Bharat Crosses New Farakka: নিউ ফরাক্কায় অবশেষে স্বস্তি, ধসের পরে মেরামতি করা লাইনে ছুটল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি নিউ ফরাক্কার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পেরিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। তবে সতর্কতার কথা মাথায় রেখে ওই অংশে ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখা হয়েছিল।
Vande Bharat Crosses New Farakka: প্রায় ৬২ ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। রেলকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে নিউ ফরাক্কা দিয়ে ট্রেন চলাচল। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতির কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ হওয়ার পর প্রথমে ওই নতুন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ি চালানো হয়। এরপর রবিবার প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন হিসেবে নতুন পাতা লাইনের উপর দিয়ে ছুটল হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
রেল সূত্রে খবর, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি নিউ ফরাক্কার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পেরিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। তবে সতর্কতার কথা মাথায় রেখে ওই অংশে ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রাখা হয়েছিল। নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছনোর আগেই চালক গতি কমিয়ে দেন। ট্রেনটি নিরাপদে ধসের অংশ পার হয়ে যাওয়ার পর লাইনে কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন রেলকর্মীরা।
বুধবার গভীর রাত থেকে নিউ ফরাক্কা এলাকায় আপ লাইনে ভূমিধসের জেরে ব্যাহত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুই অংশের মধ্যে রেল পরিষেবা। পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক ট্রেন বাতিল করতে হয়। বহু ট্রেনকে ঘুরপথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ব রেল। এর ফলে কয়েক হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করে রেল। শনিবার সকাল থেকে কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়। কর্মীদের উৎসাহ দিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে। কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি রেলকর্মীদের করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন তিনি।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার জানান, নিউ ফরাক্কার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লাইনগুলি সক্রিয় করা হয়েছে এবং ওভারহেড বৈদ্যুতিক সংযোগও দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে মালগাড়ি চালানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ‘কশান’ বা নিয়ন্ত্রিত গতিতে ধীরে ধীরে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে শনিবার গভীর রাত থেকে ফরাক্কা এলাকায় ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে চায়নি পূর্ব রেল। ফলে শনিবার রাত পর্যন্ত নতুন লাইনে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়নি। রবিবার সকালেও ঘটনাস্থলে রেলকর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়।
এর মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিউ ফরাক্কার ডাউনের দুটি লাইন ব্যবহার করে আপ এবং ডাউন—দুই দিকের ট্রেন চালানো হচ্ছিল। এর জেরে বেশ কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলছিল। তবে রবিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে নতুন লাইনে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলায় স্বস্তি ফিরেছে।
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাতে সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনই নিউ ফরাক্কার নতুন লাইন দিয়ে চলবে। কোনও ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় পর ফের ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীরা। তবে মেরামত করা অংশে আপাতত নিয়ন্ত্রিত গতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। রেললাইন ও মাটির পরিস্থিতি নজরে রেখে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


