বাংলার মন জয়ে মরিয়া! উত্তরবঙ্গবাসীর স্বপ্নপূরণ, PM মোদীর হাত ধরে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যাত্রা শুরু
প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে কেন্দ্র করে মালদহ টাউন স্টেশনে এদিন ছিল উৎসবের মেজাজ।
ছাব্বিশের মহারণের আগে বাংলার মন জয়ে মরিয়া নয়া দিল্লি। দু’দিনের সফরে শনিবার রাজ্যে এসেই মালদহ টাউন স্টেশন থেকে দেশের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত হাওড়া-গুয়াহাটি (ভায়া মালদহ) বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পাশাপাশি রেল ও সড়কপথ মিলিয়ে মোট ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়া ভার্চুয়ালি ফ্ল্যাগ অফ করেন চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন।

শনিবার মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছন নরেন্দ্র মোদী। তিনি ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ হেলিকপ্টারে লক্ষ্মণ সেন স্টেডিয়ামে নামেন। সেখান থেকে সড়ক পথে স্টেশনে আসেন। এরপরেই মালদহ স্টেশনে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার কোচের করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সবুজ পতাকা নাড়িয়ে নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু করলেন তিনি। কলকাতা থেকে ১৫ ঘণ্টায় গুয়াহাটি পৌঁছবে এই ট্রেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বললেন ট্রেনের চালক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে। তার আগে এই ট্রেনে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে মালদহে কচিকাঁচাদের সঙ্গে আলাপচারিতা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এদিন এই বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-সহ রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মালদহ টাউন স্টেশন চত্বর মুড়ে ফেলা হয় নিরাপত্তার চাদরে। প্রতি মুহূর্তে স্টেশন চত্বর এবং প্ল্যাটফর্মের আনাচে-কানাচে চলে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি। ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে রেলের স্নিফার ডগ।
এদিন দু’দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমেই মালদহ টাউন স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজের খতিয়ান দেখার পাশাপাশি তিনি এই নতুন স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে কেন্দ্র করে মালদহ টাউন স্টেশনে এদিন ছিল উৎসবের মেজাজ। উৎসবের রঙে রাঙা হাজার হাজার মানুষের ভিড়, ফুলের সাজ, আলোকসজ্জা আর উচ্ছ্বাস।প্রধানমন্ত্রী মোদী মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছতেই স্টেশন চত্বর যেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো ঝলমলে হয়ে ওঠে। বন্দে ভারতের এই স্লিপার ভার্সনটি মূলত দীর্ঘপাল্লার যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছেড়ে মালদহ হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত যাবে। উন্নতমানের বার্থ, বায়ো-টয়লেট, সেন্সর যুক্ত ইন্টার-ডোর এবং অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্বলিত এই ট্রেনটি যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমিয়ে আনবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেমি-হাইস্পিড স্লিপার ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করল। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গকে এক ডজনের বেশি নতুন ট্রেন উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।'
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই হাই-প্রোফাইল উদ্বোধন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরবঙ্গ ও মালদহ-মুর্শিদাবাদ বেল্টের মানুষের মন জয় করতেই কেন্দ্র এই বড় পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। এদিন সরকারি কর্মসূচি শেষে মালদহর মোরগ্রাম মাঠে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তাঁর গন্তব্য হুগলির ঐতিহাসিক সিঙ্গুর। সেখানে দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ ৮৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের সূচনা করে সাড়ে ৩টেয় রাজনৈতিক সভা করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদা বাম আমলের পতনের কেন্দ্রবিন্দু সিঙ্গুরকে বেছে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন।
E-Paper











