Student Protests: ‘আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য...,' ছাত্রবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেই বিস্ফোরক সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষ

Surendranath Law College Protest: ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষায় বসার জন্য নির্দিষ্ট শতাংশ উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু উপস্থিতি ৪০ শতাংশের কম থাকায় বহু ছাত্রছাত্রীকে এবারের পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Published on: Sep 11, 2026, 21:00:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Surendranath Law College Protest: ক্লাসে পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার দাবিতে তুলকালাম শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ (Surendranath Law College)। ছাত্রবিক্ষোভ ও রাতভর ঘেরাওয়ের মুখে পড়ে শেষমেশ ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। তবে 'চোর চোর' স্লোগানের মধ্যে দিয়ে কলেজ ছাড়ার মুহূর্তে তাঁর দাবি, স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েননি তিনি, চাপ দিয়ে পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যথাযথ তদন্তের আবেদন জানালেন মহম্মদি তারান্নুম।

ছাত্রবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেই বিস্ফোরক সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষ (সৌজন্যে টুইটার)
ছাত্রবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেই বিস্ফোরক সুরেন্দ্রনাথের উপাধ্যক্ষ (সৌজন্যে টুইটার)

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষায় বসার জন্য নির্দিষ্ট শতাংশ উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু উপস্থিতি ৪০ শতাংশের কম থাকায় বহু ছাত্রছাত্রীকে এবারের পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পড়ুয়াদের দাবি, সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের পরিকাঠামো একেবারেই যথাযথ নয় এবং শিক্ষকেরাও নিয়মিত ক্লাস করান না। তাঁরা এই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেই প্রতিহিংসামূলকভাবে কলেজের সময় সকাল সাড়ে আটটার পরিবর্তে সকাল ছ’টা থেকে ক্লাস শুরু করার ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত সকালে কলকাতায় মেট্রো পরিষেবা চালু না থাকায় বহু দূর-দূরান্তের পড়ুয়ার পক্ষে সময়ে কলেজে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি, যার ফলে তাঁদের উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গিয়েছে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনও নথি কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

এই পরিস্থিতির মাঝেই বৃহস্পতিবার নির্ধারিত পরীক্ষার ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন কর্তৃপক্ষ। এর পরেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উপাধ্যক্ষ-সহ অন্যান্য কর্মী ও আধিকারিকদের সারারাত ধরে ঘেরাও করে রাখেন ক্ষিপ্ত পড়ুয়ারা। উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখা হয় প্রায় ২৩ ঘণ্টা। একটানা চলতে থাকা এই ঘেরাও আন্দোলনের জেরে বাধ্য হয়ে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। এদিন পুলিশের সহযোগিতায় নিজের ঘর থেকে বেরোতে পারেন তিনি। বেরিয়েই তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় দু’দিন তাঁকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকী জল, বিদ্যুৎসংযোগও ছিল না। মহম্মদি তরন্নুম বলেন, 'বার বার বলা হচ্ছে আমি বাম রাজনীতি করি। হ্যাঁ, করতাম। ২০১৬-র পর আমি সব রকম রাজনৈতিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।' দীর্ঘ ঘেরাওয়ের পর তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি মহম্মদি তরন্নুমের।

তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি, ডিপিআই, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে। এদিন যখন কলেজ থেকে বেরোলেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তরন্নুম, তখন চারপাশে চোর চোর স্লোগান ওঠে। কলেজ থেকে বেরিয়েই মহম্মদি তরন্নুম বার বার বলেন, 'আমি পদত্যাগ করিনি, আমি পদত্যাগ করিনি।' অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে যে ছ’জন শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ঘর থেকে বার করে দিয়ে তাঁকে আটকে রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় দু’দিকের দরজা। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎসংযোগ। মহম্মদি তরন্নুমের কথায়, 'অন্ধকারে পড়েছিলাম। আমার উপর অত্যাচার করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, আপনারা তদন্ত করে দেখুন। কলেজে কী সত্যিই স্বচ্ছ উপস্থিতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই? তদন্ত হওয়া দরকার। দিনের পর দিন যদি এ ভাবে শিক্ষকদের উপর আক্রমণ হয়, তা হলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।'

আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তরন্নুম। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যাচার করেছেন। প্রতি মুহূর্তে বাধা সৃষ্টি করতেন। তরন্নুমের বক্তব্য, 'তাই আমি নিজে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিলাম। কারণ চেয়েছিলাম, পরিবর্তন আসবে, নতুন সরকার আসবে, মানুষের জন্য কাজ করবে। এই কী নতুন সরকারের রূপ?' প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তরন্নুম। যদিও পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকেই সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের সামনে গোলমালের আশঙ্কায় পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়িও রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল বাহিনী। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফেই এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে কলেজের উপাধ্যক্ষের তরফ থেকে ই-মেলের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই ই-মেলেও তাঁকে উদ্ধার করার বিষয়ে কোনও অনুরোধ করা হয়নি। যদিও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখে। পাশাপাশি, মেডিক্যাল কলেজের একটি দল নিয়ে উপাধ্যক্ষের শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, উপাধ্যক্ষ চত্বর ছাড়তেই উৎসবের মেজাজ ফেরে সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজে। গঙ্গাজল ছিটিয়ে, ধূপ জ্বালিয়ে রীতিমতো ‘শুদ্ধিকরণ’ চালান আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা। এলএলএম প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মিলটন সরকার বলেন, 'আমাদের কলেজ পাপমুক্ত হল, তাই ধূপ আর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করলাম।'