Falta Re-election demand: 'বাইরে বেরলে মার্ডার করবে...,' ফের রণক্ষেত্র ফলতা, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভে গ্রামবাসীরা
Falta Re-election demand: এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাড়ি ভাঙচুর, শাসানি থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর দেখে নেওয়ার মতো হুমকি দিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান ইশরাফুল চকদার। শুধু তাই নয়, পুলিশের ভূমিকাতেও বাড়ছে ক্ষোভ।
Falta Re-election demand: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তেজনা কমার নামই নিচ্ছে না। শনিবার নতুন করে অশান্তি আবহ তৈরি হল হাসিমনগরে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তুলে ফলতার হাসিমনগরে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গত বুধবার তাঁদের ভোটদানে বাধা দিয়েছে তৃণমূল। একই সঙ্গে হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। বঙ্গনগর ২ পঞ্চায়েত প্রধান ইশরাফুল চকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তিনি আবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় পরিচিত।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাড়ি ভাঙচুর, শাসানি থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর দেখে নেওয়ার মতো হুমকি দিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান ইশরাফুল চকদার। শুধু তাই নয়, পুলিশের ভূমিকাতেও বাড়ছে ক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ জনতার উপর পুলিশ লাঠি চালিয়েছে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। আর তারপর থেকেই বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। এই পরিস্থিতিতে ফের ভোটের দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। গ্রামের এক বাসিন্দা বলছেন, 'আমি তো ভোট দিতে পারিনি। আমাদের পাড়ায় এ রকম অনেকেই আছে যারা ভোট দিতে পারেনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে থ্রেট দিয়েছে ইশরাফুল। বাইরে বেরলে মারবে, মার্ডার করবে বলেছে। ওর গ্রেফতারির দাবিতে আমরা মিছিল করছি।'
বিক্ষোভকারী আর এক মহিলা বলেন, 'থানার পুলিশ আমাদের লাঠিচার্জ করেছে। অত্যাচারের মধ্যে কোনওমতে ভোট দিয়েছি। আমাদের দাবি আমরা নিরাপত্তা চাই। বাড়ি বাড়ি কেন থ্রেট দেওয়া হবে?' তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এলাকার আরও এক ব্যক্তি বললেন, 'আমরা আবার ভোট চাই। আমাদের একটাই দাবি পুনর্নিবাচন।' এদিকে তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন। এসেছে সাঁজোয়া গাড়িও। ততক্ষণে জয় শ্রী রাম স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। এলাকার এক বাসিন্দা বলছেন, 'এখানে তো শুধু ছাপ্পা হয়। তৃণমূলের লোকেরা শুধু ভয় দেখায়। বলে তৃণমূলকেই ভোট দিতে বলে নাহলে খবর আছে! ভয়ে তো কেউ মুখ খুলতে পারছিল না।' ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ফলতায় কারচুপির ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। সূত্রের খবর, রাজ্যজুড়ে যে ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে, তার মধ্যে কেবল ফলতা বিধানসভারই রয়েছে ৩২টি বুথ। নির্বাচন কমিশন এই আবেদনগুলো খতিয়ে দেখছে। আপাতত হাসিমনগরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও চাপা উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে। ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত ফলতা যে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
E-Paper

