Voter's Death Fact Check by EC: জওয়ানের ধাক্কায় প্রাণ হারান বৃদ্ধ ভোটার? TMC-র 'ভুয়ো দাবি' উড়িয়ে প্রমাণ পেশ EC-র

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ৮২ বছর বয়সি এক ভোটারের মৃত্যু হয় ভোট দিতে গিয়ে। মৃতের নাম পূর্ণ চন্দ্র দলুই। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বুথ কেন্দ্রের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। 

Published on: May 1, 2026, 08:53:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। এবারে রাজনৈতিক হিংসায় কারও মৃত্যু হয়নি ভোটের দিন। তবে এরই মাঝে বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের তরফ থেকে। এমনকী কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে রাজ্যের শাসকদলের এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দিয়েছে 'প্রমাণ'।

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ৮২ বছর বয়সি এক ভোটারের মৃত্যু হয় ভোট দিতে গিয়ে।
হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ৮২ বছর বয়সি এক ভোটারের মৃত্যু হয় ভোট দিতে গিয়ে।

হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের ৮২ বছর বয়সি এক ভোটারের মৃত্যু হয় ভোট দিতে গিয়ে। মৃতের নাম পূর্ণ চন্দ্র দলুই। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বুথ কেন্দ্রের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ভোটারদের লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেখানে জওয়ানদেরও দেখা গিয়েছে। এদিকে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে দেখা যায়, সেই বৃদ্ধকে কেউ ধাক্কা মারেনি। তিনি ভোট দিতে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন।

এর আগে অবশ্য এই ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেই পোস্টে লেখেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত আর্মিতে পরিণত হয়েছে।' কেন্দ্রীয় বাহিনীকে 'লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুন্ডা' বলে তোপ দাগেন তিনি। তবে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান সেই বৃদ্ধ ভোটার। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অভিষেক নিজের পোস্টে আরও লিখেছিলেন, 'উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। নিজে নিজে হাঁটার মতো শারীরিক অবস্থা না থাকায় তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে ঢুকতে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দুজনকেই ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্থা করে। বৃদ্ধটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছানোর পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ভোর থেকেই এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে—মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের ওপর হামলা করছে, এমনকি শিশুদেরও আক্রমণ করছে। এটাই ২০২১ সালের শীতলকুচি মানসিকতা: নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথার, নির্মম সহিংসতা। ২০২১ সালে নিরীহদের রক্তের জন্য বিজেপিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৬ সালে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। আর বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের বলছি: তোমরা কোন রাজ্য থেকে এসেছো তাতে কিছু যায় আসে না। কার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা তোমাদের রক্ষা করছে, সেটাও কোনো বিষয় নয়। এই বর্বরতার সাথে জড়িত তোমাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি করা হবে। তোমাদের এই ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাধ্যমে।'

তবে এবার বিবৃতি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সেই বৃদ্ধ ভোটারকে কোনও ধাক্কা দেওয়া হয়নি। এরই সঙ্গে সিএপিএফ জওয়ানদের প্রশংসা করা হয় কমিশনের তরফ থেকে। এছাড়া পূর্ণ চন্দ্র দুলুইয়ের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করা হয়, তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। এবং সব শেষে কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়, 'সত্যের ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।'

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More