WB 5th Pay Commission DA: বকেয়া DA মামলা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য? ঘুঁটি সাজাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরাও
বকেয়া (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে রাজ্য সরকার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা সুখবর পেয়েছিলেন। পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) রায় নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য সরকার? সেরকমই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ মামলায় যে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তা নিয়ে মামলা দায়ের করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে কী কী যুক্তি তুলে ধরা হবে, কীভাবে মামলার ঘুঁটি সাজানো হবে, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সময় পাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য সরকার?
সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের ধারণা, যদি বকেয়া ডিএ মামলার রায় নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার, সেটার উদ্দেশ্য থাকবে মূলত কিছুটা সময় আদায় করে নেওয়া। কারণ সামনেই বিধানসভা নির্বাচন আছে। তার আগে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রকল্পের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে সরকার। সবমিলিয়ে রাজ্যের কোষাগার থেকে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বকেয়া ডিএয়ের ২৫ শতাংশ মেটানো কঠিন। তাতে জনমুখী প্রকল্প ধাক্কা খেতে পারে। ভোটে বিরূপ প্রভাব পড়তেও পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অতীতে রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্ট যে পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছিল, তাতে কলকাতা হাইকোর্টের রায় মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে কোষাগার থেকে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। আর অবিলম্বে যেহেতু ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট, তাই সেটা দিতে গেলে মোটামুটি ১০,০০০ টাকা কোটি টাকার মতো লাগবে। সেই পরিস্থিতিতে আরও কিছুটা সময় আদায় করে নিতে রাজ্য সরকার ফের সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের
যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে আপাতত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অবশ্য নিজেদের মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, ‘ভারতবর্ষের মধ্যকার একটা প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গ, তার সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়কেও মান্যতা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, তখন এই রাজ্যে বসবাসকারী সমস্ত শিক্ষিত মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ আছড়ে পড়া উচিত এই সরকারের উপরে। এই প্রতিবাদের মধ্যে কোনও দলীয় সংকীর্ণতার প্রতিবন্ধকতা আসা উচিত নয়।’
ঘুঁটি সাজাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা
সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ তৎক্ষণাৎ এবং বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। কর্মচারীদের এই হকের পাওনা আদায় করার জন্য ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে পথে নেমেছিলেন এই রাজ্যের সমস্ত স্তরের শিক্ষক, কর্মচারী ও পেনশনাররা। এই অবস্থায় এই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ও যৌথ মঞ্চ (রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি পরিচালিত) আলোচনায় বসেছিল ভবিষ্যত আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে। আশা করি, আগামিদিনে ঐক্যবদ্ধ কর্মচারী প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হবে এই কাটমানিখোর সরকারকে।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


