WB 6th Pay Commission Latest Update: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় সুখবর! মিলবে অগ্রিম বেতন, নয়া প্রকল্প চালু নবান্নের
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ দফতর। গ্রুপ এ থেকে গ্রুপ ডি, সব স্তরের স্থায়ী সরকারি কর্মীরাই নির্দিষ্ট শর্ত মেনে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি, দুই ধরনের অগ্রিম নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চিকিৎসার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা হঠাৎ পারিবারিক আর্থিক সমস্যা। জরুরি প্রয়োজনে টাকার অভাব মেটাতে এবার বিশেষ ব্যবস্থা চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারি কর্মীরা এবার নিজেদের বেতনের ভিত্তিতে অগ্রিম টাকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ দফতর। গ্রুপ এ থেকে গ্রুপ ডি, সব স্তরের স্থায়ী সরকারি কর্মীরাই নির্দিষ্ট শর্ত মেনে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি, দুই ধরনের অগ্রিম নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে হবে। অন্য দিকে, দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের টাকা শোধ করার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা ৬০ মাস সময় পাওয়া যাবে।

বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত অগ্রিম
নতুন প্রকল্পে প্রথমেই রয়েছে স্বল্পমেয়াদি অগ্রিমের ব্যবস্থা। কোনও সরকারি কর্মী তাঁর মাসিক নিট বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারবেন। অর্থাৎ, মাসের বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত টাকা আগাম পাওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে ঋণদাতা সংস্থার ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হবে।
এই টাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে অথবা পরবর্তী বেতন চক্রের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা শোধ করলে কোনও সুদ দিতে হবে না। এমনকি প্রসেসিং ফি, প্ল্যাটফর্ম ফি বা কনভেনিয়েন্স ফি-ও নেওয়া যাবে না। তবে কর্মীর তরফে নির্ধারিত সময়ে তথ্য দিতে দেরি হলে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ লেনদেন ফি ধার্য হতে পারে। সরকারি দফতর বা ডিডিও-র কারণে দেরি হলে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।
পাঁচ বছর পর্যন্ত কিস্তিতে টাকা শোধ
যাঁদের বেশি টাকার প্রয়োজন, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘মাল্টি-মান্থ অ্যাডভান্স’ ব্যবস্থা। এই ক্ষেত্রে দুই মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে টাকা ফেরত দেওয়া যাবে। ঋণদাতা সংস্থার মূল্যায়ন এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে কোনও কর্মী তাঁর মাসিক নিট বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।
তবে এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। মাসিক কিস্তি বা ইএমআই কোনও ভাবেই কর্মীর নিট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ, বেতনের অর্ধেকের বেশি টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য কেটে নেওয়া যাবে না। সুদের হার এবং অন্যান্য খরচের বিষয়টি ঋণ দেওয়ার আগেই কর্মীকে জানাতে হবে। এজন্য দেওয়া হবে ‘কি ফ্যাক্ট স্টেটমেন্ট’। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুরো ঋণ শোধ করলে কোনও অতিরিক্ত ফোরক্লোজার বা প্রি-পেমেন্ট চার্জ দিতে হবে না।
কী ভাবে আবেদন করবেন?
পুরো ব্যবস্থাটি পরিচালনা করবে অর্থ দফতরের ই-গভর্ন্যান্স গ্রুপ। প্রকল্পটি যুক্ত থাকবে রাজ্যের ডব্লিউবিআইএফএমএস এবং এইচআরএমএস পোর্টালের সঙ্গে। কর্মীদের ডিজিটাল সম্মতি দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করবে ঋণদাতা সংস্থা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে ব্যাঙ্ক অথবা নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স সংস্থা (এনবিএফসি) ঋণ অনুমোদন করবে। অনুমোদিত টাকা সরাসরি কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পরবর্তী বেতন থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে।
তবে এক জন কর্মী একই সময়ে একটির বেশি অগ্রিম চালু রাখতে পারবেন না। আগের ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করার পরেই নতুন করে আবেদন করা যাবে। কেউ চাকরি ছাড়লে বা অবসর নিলে নিয়ম মেনে তাঁর চূড়ান্ত পাওনা থেকে বকেয়া টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটি সরাসরি সরকারি অনুদান নয়। ঋণ দেবে অনুমোদিত ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা। সরকার মূলত বেতন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং কিস্তি কাটার ব্যবস্থায় সাহায্য করবে। ঋণ ফেরত না পাওয়ার আর্থিক দায়ও সরকারের নয়, ঋণদাতা সংস্থার। আপাতত ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসের মাধ্যমে বেতন পাওয়া স্থায়ী গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি কর্মীরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসছেন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


