আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান নিয়ে কলকাতা এবং সল্টলেক উত্তাল হয়ে উঠল। ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা স্থায়ী বেতন, অবিলম্বে বকেয়া মেটানো-সহ একগুচ্ছ দাবিতে আশাকর্মীরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আজ তাঁরা স্বাস্থ্যভবনে অভিযানে নেমেছেন। কিন্তু সেই অভিযানের আগে জেলায়-জেলায় ধরপাকড় করা হয়। কলকাতায় ব্যারিকেড করে রাস্তায় আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। আটকও করা হয়েছে আশাকর্মীরা। স্বাস্থ্যভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তবে তাতে পিছু হটছেন না আন্দোলনকারীরা। এক আশাকর্মী বলেন, ‘চটিচাটা পুলিশ নিগ্রহ করছে আমাদের। স্বাস্থ্যভবন আমরা যাবই। সরকার আমাদের জেল খাটাতে চায়, জেল খাটব। প্রশাসন আমাদের সস্তামূল্যের লোক ভেবে ফেলেছে। আমরা সাম্মানিক কি ধুয়ে খাব? এর রেশ ভোটে পড়বে।’ অপর একজন বলেন, ‘আমরা চোর নই। আমরা নায্য দাবি নিয়ে এসেছি।’
আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, গত ৭ জানুয়ারি তাঁদের বলা হয়েছিল যে আজ দেখা করা হবে। সেজন্য আজ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাস্থ্যভবনে আসতে থাকেন আশাকর্মীরা। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় ধরপাকড়। অভিযোগ উঠেছে যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় ৬০ জন আশাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে বাস আটকে আশাকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘আমরা কি জন্তু-জানোয়ার?', প্রশ্ন আশাকর্মীর
যে আশাকর্মীরা উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশনে এসেছেন, তাঁরা ট্রেন থেকেই নামতেই আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারইমধ্যে সেক্টর ফাইভে আশাকর্মীরা অবস্থানে বসেন। কেউ-কেউ আবার হাওড়া স্টেশন থেকে স্বাস্থ্যভবনের দিকে মিছিল করে যেতে থাকেন। তবে ব্যারিকেড করে আটকে দেয় পুলিশ। সেইসময় এক আশাকর্মী বলেন, ‘আমরা কি জন্তু-জানোয়ার যে এরকমভাবে ব্যারিকেড করে আটকে দিচ্ছে পুলিশ?’