WB BJP Latest Update: দলের কর্মসূচির টাকার উৎস কী, খরচ কত, সব হিসাব দিতে হবে, নিচুতলায় কড়া নজর বঙ্গ বিজেপির
রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু বড় রাজনৈতিক সভা নয়, প্রশিক্ষণ শিবির, সাংগঠনিক বৈঠক, কর্মী সমাবেশ এমনকি দলের উদ্যোগে হওয়া অন্য কোনও অনুষ্ঠানেও টাকা কোথা থেকে এল এবং কী ভাবে তা খরচ করা হল, তা জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের কর্মসূচি পরিচালনায় টাকা এল কোথা থেকে, কত টাকা উঠল এবং কোন খাতে কত খরচ হল, এ বার তার খুঁটিনাটি হিসাব রাখতে হবে বঙ্গ বিজেপির নিচুতলার সংগঠনকে। মণ্ডল থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত দলীয় কর্মসূচির আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন করে কড়াকড়ি শুরু করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, গত ৪ মে-র পর থেকে হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির আয় এবং ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব লিখিত ভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।

রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল এই নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু বড় রাজনৈতিক সভা নয়, প্রশিক্ষণ শিবির, সাংগঠনিক বৈঠক, কর্মী সমাবেশ এমনকি দলের উদ্যোগে হওয়া অন্য কোনও অনুষ্ঠানেও টাকা কোথা থেকে এল এবং কী ভাবে তা খরচ করা হল, তা জানাতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, নিচুতলার সংগঠন থেকে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে কয়েকটি অভিযোগ রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছিল। কোথাও কর্মসূচির নামে অতিরিক্ত টাকা তোলা হচ্ছে কি না, কোথাও আবার দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সেই কারণেই এ বার আয়-ব্যয়ের পুরো নথি হাতে নিতে চাইছে দল।
নতুন ব্যবস্থায় মণ্ডল স্তরে কোনও কর্মসূচি হলে তার আর্থিক হিসাব সংশ্লিষ্ট মণ্ডল সভাপতি জেলা সভাপতির কাছে জমা দেবেন। জেলা স্তরে বড় কোনও কর্মসূচি হলে তার সম্পূর্ণ হিসাব জেলা সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জের হাতে তুলে দেবেন। পরে সেই হিসাব রাজ্য কমিটির কাছে পাঠানো হবে। অর্থাৎ নিচুতলার কোনও কর্মসূচির আর্থিক তথ্য আর সংগঠনের স্থানীয় স্তরেই আটকে থাকবে না।
দলীয় সূত্রের বক্তব্য, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন থেকেই আর্থিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ শক্ত করতে চাইছে। মূল লক্ষ্য, ভবিষ্যতে দলের নাম করে অর্থ তোলা বা কর্মসূচির খরচ দেখিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়। দলের একাংশের মতে, সংগঠন বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের অভিযোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই শুরু থেকেই হিসাবের খাতা পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে রবিবার রাজ্য সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের দেওয়া বার্তারও যোগ দেখছেন দলের নেতাদের একাংশ। দলীয় বৈঠকে তিনি দুর্নীতি, তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যে সব অভিযোগের কারণে রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের সংস্কৃতির মধ্যে ঢুকে পড়লে তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের ভিতরে অনিয়ম ঠেকাতে বিজেপি শুরু থেকেই বার্তা দিতে চাইছে। দলের নামে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নিলে বা আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু বড় নেতাদের নয়, মণ্ডল এবং বুথ স্তর পর্যন্ত দলের আর্থিক কাজকর্মের উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, নতুন সংগঠনে কোনও ভাবেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। দলের প্রতিটি কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে এল, কত টাকা খরচ হল এবং তার হিসাব কোথায় রাখা হল, সেই তথ্য এখন থেকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। দলের ভিতরে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখাই যে শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম অগ্রাধিকার, এই সিদ্ধান্তে তারই ইঙ্গিত মিলছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


