WB Border & Terrorism Claims: সীমান্তে ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে শমীকের বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘জঙ্গিরা স্থায়ী ডেরা গড়ছে বঙ্গে’

শমীক বলেন, আশির দশক থেকেই ‘সাইলেন্ট ডেমোগ্রাফিক ইনভেশন’ নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, 'বিনা যুদ্ধে ভারতবর্ষকে দখল করার চক্রান্ত চলছে।' তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান বা সরকারি তদন্তের তথ্য তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি।

Published on: Sep 4, 2026, 10:05:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে ফের সরব বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকছে। পাশাপাশি ওই পথেই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরাও রাজ্যে ঢুকছে বলে অভিযোগ তাঁর।

অনুপ্রবেশকে ‘র‌্যাডিক্যাল অ্যাগ্রেশন’ বলে আখ্যা দেন শমীক ভট্টাচার্য
অনুপ্রবেশকে ‘র‌্যাডিক্যাল অ্যাগ্রেশন’ বলে আখ্যা দেন শমীক ভট্টাচার্য

বারাসত-টাকি রোডের শিমুলতলায় একটি সেবাশিবিরে বক্তব্য রাখছিলেন শমীক। সেখানেই তিনি অনুপ্রবেশকে ‘র‌্যাডিক্যাল অ্যাগ্রেশন’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু জনসংখ্যার পরিবর্তন নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।

‘বিনাযুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত’

শমীকের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসবাদীরা। শুধু যাতায়াত নয়। অনেকেই সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপি রাজ্য সভাপতির আরও অভিযোগ, এই সব এলাকায় জাল আধার এবং জাল প্যান কার্ড তৈরির চক্র সক্রিয়। তাঁর কথায়, এই এলাকা ধীরে ধীরে জাল নথি তৈরির ‘হাব’ হয়ে উঠছে।

শমীক বলেন, আশির দশক থেকেই ‘সাইলেন্ট ডেমোগ্রাফিক ইনভেশন’ নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, 'বিনা যুদ্ধে ভারতবর্ষকে দখল করার চক্রান্ত চলছে।' তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান বা সরকারি তদন্তের তথ্য তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি।

সীমান্ত জেলাই ‘করিডোর’?

শমীকের দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলি দিয়ে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের যাতায়াত চলছে। তাঁদের কেউ কেউ রাজ্যে থেকেই কাজ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না বলে বার্তা দেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, এই ধরনের কারবার দ্রুত বন্ধ করতে হবে। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে আরও কড়া নজরদারির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গও টানলেন

এ দিন বাংলাদেশ নিয়েও কথা বলেন শমীক। তাঁর অভিযোগ, সেখানে মন্দির, ইসকন এবং বাঙালি ঐতিহ্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। উদ্বাস্তু হওয়ার স্মৃতির কথা তুলে তিনি ঐক্যের ডাক দেন। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর আঘাতের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

ওয়াকফ নিয়েও তৃণমূলকে নিশানা

এ দিনের সভা থেকে তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বিশেষ করে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। শমীকের দাবি, তৃণমূল আমলে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দুর্নীতি ও লুটের ঘটনা আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতার নাম করে হামলা এবং বাড়িঘর লুটের অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির ক্ষেত্রেও কোনও নির্দিষ্ট মামলার তথ্য বা সরকারি নথি তিনি এ দিন সামনে আনেননি।

অনুপ্রবেশ নিয়ে ফের রাজনীতির উত্তাপ

রাজ্যে অনুপ্রবেশের অভিযোগ নতুন নয়। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাস, জাল নথি এবং নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা দীর্ঘদিনের। তার মধ্যেই শমীকের এ দিনের বক্তব্যে সেই বিতর্ক ফের তীব্র হল। এক দিকে অনুপ্রবেশ রোখার দাবি। অন্য দিকে জঙ্গি কার্যকলাপের অভিযোগ। সব মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা এখন আবারও রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More