WB Budget Political Row: শুভেন্দুর সরকারের প্রথম বাজেট আজ, বিরোধিতা করা নিয়ে নেতাদের কী বার্তা মমতার?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাদের বলেন, নতুন সরকার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই তাদের প্রথম বাজেটকে সময় দেওয়া উচিত। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজ্য সরকার কতটা অর্থ বা প্রকল্প আনতে সক্ষম হয়, সেটাও দেখতে হবে। সব কিছু বিচার করে পরে প্রয়োজন হলে সমালোচনা করা যাবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর আজ বিধানসভার দিকে। বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে সোমবার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল— সকলেরই আগ্রহ তুঙ্গে। এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার কালীঘাটে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে বাজেট প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে আগেভাগে কোনও বিরোধিতার পথে হাঁটা যাবে না। বরং বাজেটে বাংলার জন্য কী ঘোষণা করা হচ্ছে, কোন খাতে কত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষের জন্য কী নতুন প্রকল্প বা সুবিধা আনা হচ্ছে, সেগুলি আগে খতিয়ে দেখতে হবে। তারপর দল তার অবস্থান জানাবে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাদের বলেন, নতুন সরকার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই তাদের প্রথম বাজেটকে সময় দেওয়া উচিত। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজ্য সরকার কতটা অর্থ বা প্রকল্প আনতে সক্ষম হয়, সেটাও দেখতে হবে। সব কিছু বিচার করে পরে প্রয়োজন হলে সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু আগে থেকেই বিরোধিতার অবস্থান নিলে তা মানুষের কাছে ভালো বার্তা দেবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল এখন নতুন করে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টায় রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে চাইছে দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুঝতে পারছেন, শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকেও বাজেট নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই বাজেটে রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প এবং পরিকাঠামো খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা থাকতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বিজেপি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কিছু বাস্তবায়নের রূপরেখা এই বাজেটে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলে আজকের বাজেট শুধু আর্থিক নথি নয়, নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরও প্রতিফলন হতে চলেছে। রাজ্যের অর্থনীতি কোন পথে এগোবে, উন্নয়নের জন্য সরকারের পরিকল্পনা কী এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে— তার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে এই বাজেটে।
এদিকে তৃণমূলের সংযত অবস্থানও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, বিরোধী শিবির হিসেবে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরোধিতা না করে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়েছে দল। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে আরও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তির ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


