WB By Election Left Front Tussle: দুই উপনির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে বামফ্রন্টে টানাপড়েন, রেজিনগরেই যত গোলমাল

উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতেই বেগ পেতে হচ্ছে বামফ্রন্টকে। দুই আসনে কোন শরিক দল প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে এখনও মতপার্থক্য কাটেনি। নন্দীগ্রাম নিয়ে মোটের উপর সমঝোতা হলেও রেজিনগর নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেই জট কাটাতে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে বাম নেতৃত্ব।

Published on: Sep 11, 2026, 08:31:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB By Election Left Front Tussle: ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন। কিন্তু ভোটের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতেই বেগ পেতে হচ্ছে বামফ্রন্টকে। দুই আসনে কোন শরিক দল প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে এখনও মতপার্থক্য কাটেনি। নন্দীগ্রাম নিয়ে মোটের উপর সমঝোতা হলেও রেজিনগর নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেই জট কাটাতে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে বাম নেতৃত্ব।

উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতেই বেগ পেতে হচ্ছে বামফ্রন্টকে।
উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতেই বেগ পেতে হচ্ছে বামফ্রন্টকে।

রেজিনগর নিয়ে সিপিএম-আরএসপি টানাপড়েন

বামফ্রন্ট সূত্রে খবর, রেজিনগর আসনটি নিয়ে মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে সিপিএম এবং আরএসপির মধ্যে। এই কেন্দ্রে আরএসপির সংগঠন খুব শক্তিশালী না হলেও দীর্ঘদিন ধরেই তাদের কিছুটা সাংগঠনিক উপস্থিতি রয়েছে। সেই কারণেই পুরনো আসনটি ফের নিজেদের দখলে নিতে চাইছে আরএসপি।

অন্যদিকে, গত কয়েকটি নির্বাচনে রেজিনগরে লড়েছে সিপিএম। ফলে এবারও আসনটি ছাড়তে নারাজ বড় শরিক। সিপিএমের যুক্তি, সংগঠন ও নির্বাচনী বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে তারাই এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে চায়। আরএসপির দাবি, ধারাবাহিক ভাবে সিপিএমকে আসনটি দেওয়া হলেও তাদের সংগঠনকে কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে।

এদিন বামফ্রন্টের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই উত্তাপ বাড়ে বলে সূত্রের খবর। আরএসপির প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবির পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। কিন্তু সিপিএমও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি।

নন্দীগ্রাম নিয়ে সিপিআইয়ের দাবি

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম নিয়েও শুরু থেকেই শরিকদের মধ্যে টানাপড়েন ছিল। তবে রেজিনগরের তুলনায় এখানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট। আগেভাগেই নন্দীগ্রাম আসন দাবি করে রেখেছে সিপিআই। গত বিধানসভা নির্বাচনেও ফ্রন্ট শরিক হিসেবে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তারা।

সিপিআইয়ের অভিযোগ, আগের নির্বাচনে আসনটি তাদের হাতে থাকলেও পরে বড় শরিক সিপিএম হঠাৎ আইএসএফকে সমর্থন করেছিল। তাই এবার কোনও ভাবেই নন্দীগ্রাম ছাড়তে রাজি নয় সিপিআই। তাদের বক্তব্য, শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে পুরনো সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী রীতির মর্যাদা দেওয়া উচিত। তবে নন্দীগ্রাম নিয়ে আলোচনায় বড় কোনও বাধা হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। মূল জট আটকে রয়েছে রেজিনগরে।

বিমান বসুর অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন

এদিনের বৈঠক নিষ্ফলা হওয়ার নেপথ্যে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর অনুপস্থিতিকেও কারণ হিসেবে দেখছেন শরিকদের একাংশ। তাদের মতে, জোটের শরিকদের মধ্যে যে ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন, তা তৈরি করতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিমান বসুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুপস্থিতিতে আসন ভাগাভাগির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে বাম নেতৃত্বের তরফে এখনও প্রকাশ্যে কোনও শরিককে চূড়ান্ত ভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারণ ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচারের জন্য সময় কমে আসছে।

ফের বৈঠকে বসবে বাম নেতৃত্ব

এই পরিস্থিতিতে আজ ফের আলোচনায় বসতে চলেছে বাম নেতৃত্ব। রেজিনগর নিয়ে সিপিএম ও আরএসপির মধ্যে সমঝোতা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের দাবিকেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উপনির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের প্রার্থী বাছাইয়ে এই টানাপড়েন জোটের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই সামনে আনছে। ভোটের ময়দানে নামার আগেই শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য মেটাতে না পারলে তার প্রভাব সংগঠন ও প্রচার, দুই ক্ষেত্রেই পড়তে পারে। তাই আজকের বৈঠকেই বামফ্রন্ট কোনও সমাধানে পৌঁছতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More