Bengal's fate in Budget 2026: ভোটের বাংলায় ঢেলে ‘ভেট’ নয়, তবে বাজেটের একাধিক ঘোষণায় জুড়ে থাকল রাজ্য
বিহারের জন্য যেভাবে দু'হাত ভরে প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, তাতে পশ্চিমবঙ্গ নিয়েও অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটলেন। মূলত তিনটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন।
ভোটের বাংলায় ঢেলে ‘ভেট’ দিলেন না কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চাকচিক্যে ভরা একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করা না হলেও বাজেটের একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকল বাংলা। যা গত দু'বারের বাজেটের থেকে বড় পার্থক্য গড়ে দিল। আগেপ দু'বার যখন সংসদে সাধারণ বাজেট পেশ করছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, তখন কার্যত মনে হচ্ছিল যে বিহারের বাজেট ভাষণ দিচ্ছেন। একাধিক হাইপ্রোফাইল ও শিরোনাম হয়ে ওঠার মতো প্রকল্প দিয়েছিলেন বিহারকে। ২০২৪ সালের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ৫৮,৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই পথে হাঁটেননি সীতারামন। পরিমিত ঘোষণা করেছেন এবারের বাজেটে।

কোন ৩টি বড় প্রকল্প পেল পশ্চিমবঙ্গ?
বিধানসভা নির্বাচনের মাসকয়েক আগে আজ যে বাজেট পেশ করলেন সীতারামন, তাতে পশ্চিমবঙ্গেরই জন্য বড় ঘোষণা বলতে ছিল তিনটি। প্রথমত, শিলিগুড়ি-বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর। দ্বিতীয়ত, ডানকুনি-সুরাট ফ্রেট করিডর। তৃতীয়ত, ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডরের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে শিল্প করিডর।
কোন কোন ঘোষণার সঙ্গে জুড়ে থাকল বাংলা?
১) বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পের অধীনে দেশে সাতটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (NIPER) আধুনিকীকরণের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। আর সেই প্রতিষ্ঠানের একটি শাখায় কলকাতায় অবস্থিত।
২) বস্ত্রশিল্পের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা করা হয়েছে। পাট, খাদি, হ্যান্ডলুম, হস্তশিল্পের মতো বিষয়ে জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ঘোষণা করেছেন মেগা টেক্সটাইল পার্কের। যে কাজের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই সরাসরি যুক্ত আছেন।
৩) কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ২০০টি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সেক্ষেত্রে কোনও রাজ্যের নাম করা না হলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই পরিকল্পনার ফলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে।
৪) ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন তহবিলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। তাছাড়াও সস্তায় জিনিসপত্র তৈরির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গও লাভবান হতে পারে। কারণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে।
৫) প্রতিটি জেলায় মেয়েদের জন্য একটি হস্টেল তৈরি করা হবে। সেখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষায়।
৬) মৎস্যচাষ এবং পশুপালনের জন্য একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। সীতারামনের দাবি, ৫০০টি রিজার্ভার এবং অমৃত সরোবর তৈরি করা হবে। লাভবান হবেন উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরা। আবার যাঁরা পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সস্তায় ঋণ নেওয়ার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।
৭) পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই রেশ ধরে ৪,০০০টি ইলেকট্রিক বাসের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


