WB Har Ghar Tiranga: দেওয়া হবে লাখ টাকা করে, ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ নিয়ে নির্দেশ নবান্নের

নবান্নের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, কলকাতা পুরসভা এবং সব জেলার জেলাশাসকদের কাছে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পতাকা সরবরাহ থেকে শুরু করে আর্থিক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Published on: Jul 27, 2026, 13:38:13 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১৭ অগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই মর্মে নবান্নের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, কলকাতা পুরসভা এবং সব জেলার জেলাশাসকদের কাছে একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পতাকা সরবরাহ থেকে শুরু করে আর্থিক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৯ থেকে ১৭ অগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
আগামী ৯ থেকে ১৭ অগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই কর্মসূচি পালিত হবে। এর মূল লক্ষ্য হল দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং সংহতির বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বিস্তৃত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা। এই কর্মসূচিতে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, যুব সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও), ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পুরসভাকে কেন্দ্রীয়ভাবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার করে জাতীয় পতাকা দেওয়া হবে। তবে পাহাড়ি জেলা কালিম্পংয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার জাতীয় পতাকা। এই পতাকাগুলি সরকারি ব্যবহার ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন।

শুধু পতাকা নয়, কর্মসূচি পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি জেলাকে ১ লক্ষ টাকা, প্রতিটি মহকুমাকে ৫০ হাজার টাকা, প্রতিটি ব্লককে ২০ হাজার টাকা, প্রতিটি পুরনিগমকে ১ লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি পুরসভাকে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে।

নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভা স্তরে তেরঙ্গা র‍্যালি ও প্রভাতফেরির আয়োজন করতে হবে। ছাত্রছাত্রী, এনএসএস, এনসিসি, নেহরু যুব কেন্দ্র, ভারত স্কাউট ও গাইড এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে যুক্ত করে সাইকেল ও ই-বাইক র‍্যালির আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে জাতীয় পতাকাকে কেন্দ্র করে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উক্তি এবং ‘বন্দে মাতরম’ বিষয়ক দেওয়াল সজ্জার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া সরকারি দপ্তর, ঐতিহ্যবাহী ভবন, বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট, বাজার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় তেরঙ্গা আলোকসজ্জা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনবহুল স্থানে তেরঙ্গা-থিমের রঙোলি তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে ‘বন্দে মাতরম’ ও অন্যান্য দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের কথাও উল্লেখ রয়েছে নির্দেশিকায়।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রতিটি বাড়ি, দোকান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। জাতীয় পতাকার ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রদর্শনী, দেশাত্মবোধক আলোচনা, সেমিনার, প্রবন্ধ রচনা, কুইজ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-সহ একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ব্যানার, পোস্টার, ডিজিটাল প্রচার এবং কেন্দ্রীয় ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ পোর্টালে জাতীয় পতাকার সঙ্গে সেলফি আপলোডের মাধ্যমে কর্মসূচিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর প্রতিটি জেলা, মহকুমা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, ছবি, ভিডিও এবং তেরঙ্গার সঙ্গে তোলা সেলফি-সহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে দেশপ্রেমের আবহ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More