WB Heavy Rain: গভীর নিম্নচাপ এগিয়ে আসতেই রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, জারি সতর্কতা, কোথায় কবে পর্যন্ত বর্ষণ?

আবহাওয়া দফতরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, সেই সময় গভীর নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের কাছাকাছি। কলিঙ্গপত্তনমের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বিশাখাপত্তনমের ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে ছিল সেটি। একই সময়ে ওড়িশার গোপালপুর থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।

Published on: Sep 24, 2026, 09:01:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB Deep Depression Heavy Rain: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পথে যায়নি আবহাওয়া ব্যবস্থা। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগেই ‘ডিপ ডিপ্রেশন’ বা গভীর নিম্নচাপ হিসাবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতেই কলিঙ্গপত্তনমের কাছ দিয়ে স্থলভাগে ঢোকার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগেই ‘ডিপ ডিপ্রেশন’ বা গভীর নিম্নচাপ হিসাবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে (ANI Photo)
সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগেই ‘ডিপ ডিপ্রেশন’ বা গভীর নিম্নচাপ হিসাবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে (ANI Photo)

আবহাওয়া দফতরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, সেই সময় গভীর নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশের কাছাকাছি। কলিঙ্গপত্তনমের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং বিশাখাপত্তনমের ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে ছিল সেটি। একই সময়ে ওড়িশার গোপালপুর থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিম দিয়ে উপকূল পার হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমডি।

তবে ‘অর্ণব’ নামটি কেন এত চর্চায়? উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকায় পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। কিন্তু কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট শক্তিতে না পৌঁছনো পর্যন্ত সেই নাম কার্যকর হয় না। এ বারও তাই শেষ পর্যন্ত ‘অর্ণব’ নামে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়নি। আইএমডি-র পূর্বাভাসে বার বার বলা হয়েছিল, সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসাবেই উপকূল পার করতে পারে।

বৃষ্টির দিক থেকে অবশ্য পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার কথা ছিল ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে। দক্ষিণ ওড়িশার একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সঙ্গে কোথাও কোথাও অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। সমুদ্রও ছিল উত্তাল। ওড়িশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং ঝোড়ো দমকা হাওয়া ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছিল আইএমডি।

ওড়িশায় পরিস্থিতির মোকাবিলায় আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম, গজপতি-সহ কয়েকটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়। মলকানগিরিতেও প্রশাসনের তরফে সতর্কতা জারি ছিল। নিচু এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, পাশাপাশি কিছু এলাকায় নৌকা ও ফেরি পরিষেবাও সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকাতেও জোরালো বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা ছিল। কলিঙ্গপত্তনম, বিশাখাপত্তনম এবং আশপাশের উপকূল এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কথা জানানো হয়। স্থলভাগে ঢোকার পর সিস্টেমটি ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও তার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকার পূর্বাভাস ছিল।

প্রভাব শুধু অন্ধ্র ও ওড়িশাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ছত্তীসগঢ়েও ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছিল। তেলঙ্গানায় ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএমডি। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব তেলঙ্গানার কয়েকটি এলাকায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা ছিল। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং সমতলের নিচু জায়গায় জল জমার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

মৎস্যজীবীদের জন্যও ছিল কড়া সতর্কবার্তা। বঙ্গোপসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ উপকূলের কাছে সমুদ্র ছিল রুক্ষ থেকে অতি রুক্ষ এবং কোথাও কোথাও প্রায় উত্তাল। অর্থাৎ ‘অর্ণব’ নামের ঘূর্ণিঝড় শেষ পর্যন্ত তৈরি না হলেও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পূর্ব ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More