WB Heavy Rain Update: অতি গভীর নিম্নচাপের জোড়া প্রভাবে ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ, দুই দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর জেরে সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা ও হলুদ সতর্কতা।

Published on: Jul 27, 2026, 12:54:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB Heavy Rain Update: শ্রাবণের শুরু থেকেই দাপট দেখাচ্ছে বর্ষা। দেশের একাধিক রাজ্যে এখনও বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে যেন উল্টো ছবি। টানা বর্ষণে ইতিমধ্যেই নাজেহাল জনজীবন। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া অতি গভীর নিম্নচাপ আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর জেরে সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা ও হলুদ সতর্কতা।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। (PTI)
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। (PTI)

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ সোমবার সকালে আরও শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ওড়িশার বালেশ্বর এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্যানিংয়ের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখাও অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। রাজস্থানের নিম্নচাপ অঞ্চল থেকে জামশেদপুর হয়ে ওড়িশা ও বাংলার উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এই অক্ষরেখা। দুই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস।

সোমবার এবং মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উপকূলবর্তী ও ওড়িশা সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

শুধু বৃষ্টিই নয়, উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ারও সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রও উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী দু'দিন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে আবহাওয়া দপ্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বিশেষ করে পাহাড় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে। শনিবার পর্যন্ত ওই জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

অন্যদিকে কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও দু'-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে বৃষ্টি না হলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে। সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৬৭ থেকে ৯৬ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১.৭ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদদের আশা, বুধবার থেকে অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপটও কিছুটা কমবে এবং আপাতত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More